চট্টগ্রামে বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। সরকারিভাবে ভাড়া বাড়ানোর কোনো ঘোষণা না থাকলেও পরিবহন মালিকরা ইতোমধ্যে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। একইসঙ্গে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের ভাড়াও বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
এতে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে প্রায়ই তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। শুধু ডিজেলচালিত নয়, সিএনজিচালিত যানবাহনের ভাড়াও অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে, যদিও গ্যাসের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সরকার এখনো ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। তবুও অনেক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক পূর্বনির্ধারিত ভাড়া না মেনে ইচ্ছামতো বেশি ভাড়া নিচ্ছেন।
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়ানো হয়, যা কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। নতুন দরে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাসভাড়ার নির্ধারিত চার্ট অনুযায়ী, বহদ্দারহাট থেকে শিকলবাহা ক্রসিং পর্যন্ত ভাড়া ২২ টাকা হলেও বর্তমানে আদায় করা হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। পটিয়া রুটে ৫৯ টাকার পরিবর্তে নেওয়া হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং কেরানীহাট পর্যন্ত ১১২ টাকার ভাড়া এখন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, পণ্য পরিবহনেও ভাড়া বেড়েছে ব্যাপকভাবে। আগে যেখানে চট্টগ্রাম থেকে আশুগঞ্জে ট্রাক ভাড়া ছিল ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায়। একইভাবে কক্সবাজার ও টেকনাফ রুটেও দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগে পরিবহন খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের বাজারেও। ফলে সাধারণ মানুষকে বাড়তি খরচের বোঝা বহন করতে হচ্ছে।
