বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে না পারাটা তার কাছে আক্ষেপের বিষয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত পে-কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও সময়ের স্বল্পতার কারণে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়নের সুযোগ মেলেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শফিকুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। তবে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে উদ্যোগটি এগোয়নি।
সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়ে প্রচলিত দুর্নীতির ধারণা নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার মতে, বাস্তব অভিজ্ঞতায় অধিকাংশ কর্মকর্তা সৎ, দায়িত্বশীল এবং পরিশ্রমী।
তিনি একজন সিনিয়র সচিবের বেতনের উদাহরণ দিয়ে জানান, মোট বেতন প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা হলেও বিভিন্ন খরচ বাদে হাতে থাকে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তুলনামূলকভাবে কম।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকেও খরচ করতে হয়েছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থাকলেও তার আর্থিক মূল্য খুব বেশি নয়।
বিদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ সংক্রান্ত ভাতা সীমিত এবং খুব কম সংখ্যক কর্মকর্তা এমন সুযোগ পান।
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সরকারি কর্মচারীদের ব্যয় আরও বেড়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, আসন্ন বাজেটে বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হোক।
শেষে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের উপযুক্ত বেতন দেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সময়ের দাবি।