পর্যটকের অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় চলতি বছর চেরি ব্লসম উৎসব বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপানের মাউন্ট ফুজির কাছের একটি শহরের কর্তৃপক্ষ।
ফুজিয়োশিদা শহরে পর্যটকের ঢল নামায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজট ও আবর্জনার সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক পর্যটক অনধিকার প্রবেশ করে ব্যক্তিগত বাগানে ঢুকে পড়ছেন, এমনকি কোথাও কোথাও সেখানে মলত্যাগের ঘটনাও ঘটছে।
বসন্তকালে জাপানের বিশ্ববিখ্যাত চেরি ফুল পূর্ণ বিকাশে থাকায় এবং পেছনে মাউন্ট ফুজির দৃশ্য উপভোগ করা যায় বলে এলাকাটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়।
তবে ফুজিয়োশিদার মনোরম দৃশ্য এখন ‘নাগরিকদের শান্ত জীবনকে’ হুমকির মুখে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন শহরের মেয়র। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে একটি তীব্র সংকটবোধ কাজ করছে।’
মঙ্গলবার ঘোষণা দিতে গিয়ে ফুজিয়োশিদার মেয়র শিগেরু হোরিউচি বলেন, ‘আমাদের নাগরিকদের মর্যাদা ও বসবাসের পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে আমরা ১০ বছর ধরে চলে আসা এই উৎসবের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
২০১৬ সালের এপ্রিলে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছিল, সাকুরা মৌসুমে পর্যটকদের জন্য আরাকুরায়ামা সেনগেন পার্কের গেট খুলে দেওয়া হবে।
এই পার্কের প্যাগোডা থেকে শহরের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে ছবি তোলার মতো ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়ার মতো বহু স্থান রয়েছে।
এলাকার আকর্ষণ বাড়ানো এবং ‘একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ’ তৈরির মাধ্যমে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর আশায় ফুজিয়োশিদা কর্তৃপক্ষ আরাকুরায়ামা সেনগেন পার্কে এই বার্ষিক আয়োজন শুরু করেছিল।
তবে কর্তৃপক্ষ জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা ‘নাটকীয়ভাবে বেড়েছে’, যা শহরের ধারণক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে এবং ‘অতিরিক্ত পর্যটনের’ ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় গুরুতর প্রভাব পড়ছে।
কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়, চূড়ান্ত চেরি ফুলের মৌসুমে এখন প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার পর্যটক শহরটিতে ভিড় করছেন।
এই বৃদ্ধির পেছনে ‘ইয়েনের দুর্বলতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে সৃষ্ট বিস্ফোরক জনপ্রিয়তাসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে বলে জানানো হয়।
শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটকেরা ‘অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত বাড়ির দরজা খুলে টয়লেট ব্যবহার করছেন’, অনধিকার প্রবেশ করছেন, আবর্জনা ফেলছেন এবং ‘ব্যক্তিগত আঙিনায় মলত্যাগ করে বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানালে হৈচৈ করছেন’—এমন ঘটনাও ঘটেছে।
উৎসবটি না হলেও এপ্রিল ও মে মাসে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে—এমন প্রস্তুতি নিচ্ছে শহরটি।
ছবি তুলতে আগ্রহী পর্যটকদের কারণে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবেলায় জাপানি কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়।
২০২৪ সালে খারাপ আচরণকারী পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করতে ফুজিকাওয়াগুচিকোতে জাপানের অন্যতম প্রতীকী একটি ছবি তোলার স্থানের সামনে বড় কালো ব্যারিকেড বসানো হয়।
ফুজিকাওয়াগুচিকোর বাসিন্দারা অভিযোগ করেছিলেন, নিখুঁত ছবি খুঁজতে গিয়ে বিদেশি পর্যটকেরা আবর্জনা ফেলছেন এবং অবৈধভাবে গাড়ি পার্ক করছেন।
ফুজিকাওয়াগুচিকোর সেই বিখ্যাত দৃশ্যে সামনে একটি কনভেনিয়েন্স স্টোর এবং পেছনে জাপানের সবচেয়ে পরিচিত স্থাপনা দেখা যায়।
অতিরিক্ত পর্যটনের চাপ সামাল দিতে জাপান একা নয়, সোমবার ইতালির কর্তৃপক্ষ রোমের বিখ্যাত ত্রেভি ফাউন্টেনের দর্শন এলাকায় প্রবেশের জন্য দুই ইউরো ফি চালু করেছে, যেখানে আগে বিনা মূল্যে প্রবেশ করা যেত। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অর্থ পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং স্থাপনাটির রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহার করা হবে।
ভেনিসে এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে নির্দিষ্ট দিনে শহরটি ঘুরতে আসা একদিনের পর্যটকদের আগাম বুকিং করলে পাঁচ ইউরো এবং শেষ মুহূর্তে বুকিং করলে ১০ ইউরো দিতে হবে।
