২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ইশতেহারটি উপস্থাপন করেন।
ইশতেহারে রাষ্ট্র সংস্কার, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
৯০ পৃষ্ঠার ইশতেহারে জামায়াত মোট ৪১টি খাতে তার পরিকল্পনা তুলে ধরেছে।
এ ছাড়া ক্ষমতায় গেলে আগামী ৫ বছর কিভাবে দেশ পরিচালনা করবে ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে।
‘একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ’ স্লোগানে নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাধান্য পেয়েছে ২৬টি বিষয়। সেগুলো হলো— জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ, ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন, যুবকদের ক্ষমতায়ণ, নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়ন, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন, প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠন, ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব টেকসই ও স্বচ্ছ, অর্থনীতি বিনির্মাণ, সুসংহত ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্র পরিচালনায় জুলাইয়ের স্বপ্নকে ধারণ করা, কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করা, ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘তিন শূন্য ভিশন’ বাস্তবায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিতে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে।
ইশতেহারের আরও প্রাধান্যের মধ্যে রয়েছে, শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি, প্রবাসীদের সব অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দেশ গঠনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু নয় এবং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, আধুনিক ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, যাতায়াত ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং বিভাগীয় শহরগুলোর দূরত্ব পর্যায়ক্রমে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন নিশ্চিত করা, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপ ও বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা, সার্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
