২০২৬ সালের সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারি মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার (৩১৭ কোটি ডলার) রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় (ডলারপ্রতি ১২২ টাকা হিসাবে) এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ। এই অঙ্কটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের তুলনায় ৪৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক–এর মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে জানা গেছে, নতুন বছরের প্রথম মাসে ৩১৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। যা গত বছরের একই সময়ে তুলনায় ৯৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি এসেছে। গত বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এসেছিল ২১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
এদিকে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত (প্রথম ৬ মাস) রেমিট্যান্স ১ হাজার ৯৪৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। যা গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৫৮৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় ৩৪৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি এসেছে।
এর আগে, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি (৩.২৯ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড রয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে ঈদ কেন্দ্র করে এসেছিল সেটি। এখন পর্যন্ত এটিই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ডটিও ছিল গত বছরের মে মাসে ২৯৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স।
তবে সেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ডটিকে ভেঙে দিয়ে নতুন রেকর্ড তৈরি করলো সদ্য বিদায়ী বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। সদ্য বিদায়ী মাসটির পুরো সময়ে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার বা প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স এসেছে— জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার।
