মহা উদ্যমে এগিয়ে চলেছে নির্বাচনি প্রচারণা। দুটি বড় আকারের রাজনৈতিক জোটসহ অন্য অংশগ্রহণকারীরা চালিয়ে যাচ্ছে ভোটে বিজয়ী হওয়ার প্রচারণা। একটা উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা দিয়েছে সংসদীয় এলাকাগুলোয়। অবশ্য কিছু বিচ্ছিন্ন আক্রমণ, প্রতি-আক্রমণের খবরও রয়েছে।
নির্বাচনি প্রচারণায় দুই জোটই মূলত প্রধান প্রতিপক্ষ। আবার এ দুই জোটের প্রধান শরিক বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী রয়েছে ভোটের ফলাফলে নিয়ামকের ভূমিকায়। এ দুই দলের শীর্ষ নেতা যথাক্রমে তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্য নেতা ও প্রার্থীরা জাতির সামনে ও স্ব স্ব নির্বাচনি এলাকার জনগণের কাছে তাদের বক্তব্য তুলে ধরার প্রয়াস পাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, উভয়পক্ষই প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে তারা কী কী কর্মসূচি হাতে নেবেন, সেসবের বর্ণনা দিচ্ছেন তারা।
একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে সমালোচনাও শোনা যাচ্ছে। নির্বাচনে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সমালোচনা আইনগতভাবে সিদ্ধ। কিন্তু সমালোচনা যদি নিন্দার পর্যায়ে চলে যায়, তাহলে সেটা নিশ্চয়ই গণতন্ত্রসম্মত হবে না। আমরা লক্ষ করছি, অনেক প্রার্থীই পরস্পর কাদা ছোড়াছুড়ি করে চলেছেন। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক সমালোচনা এবং সেই সমালোচনার ভাষা শালীন হওয়া অত্যাবশ্যক। তা না হলে প্রচারণার মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে, যা নির্বাচনের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে। ফলে কাদা ছোড়াছুড়ির পরিবর্তে প্রার্থীদের কাছ থেকে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা বা সমালোচনা আশা করছে জাতি।
নির্বাচনি প্রচারণার মাঠে যে বিষয়টির অভাব অনুভূত হচ্ছে, তা হলো-প্রতিশ্রুতিগুলো ভোটার শ্রেণি জানতে পারছে; কিন্তু সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে ব্যাপারে রূপরেখা জানতে পারছে না। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, নির্বাচনের আগে দল ও দলীয় প্রার্থীদের পক্ষ থেকে জনগণকে প্রচুর প্রতিশ্রুতির গল্প শোনানো হয়। কিন্তু ভোট প্রদান শেষ হয়ে গেলে ভোটাররা সেসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে পান না। একগাদা প্রতিশ্রুতির মধ্যে অল্পসংখ্যকের প্রতি নির্বাচিত সরকার মনোযোগী হয়, বাদবাকিগুলো চলে যায় বিস্তৃতির অন্তরালে। এ কারণে সরকারে থাকা দল পরবর্তী নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারে না। এমনও দেখা গেছে, কিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যেগুলো বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন। বাস্তবতার মধ্যে থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি অনেক ক্ষেত্রে। ফলে সরকার গঠনের পর ভোটাররা হতাশ হয়েছেন এবং এ হতাশা থেকে জন্ম নিয়েছে ক্ষোভ, সমাজে বেড়েছে অস্থিরতা। তাই আমরা মনে করি, জনগণকে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া উচিত, যা বাস্তবায়নযোগ্য। মিথ্যা আশ্বাস কাজের কথা নয়। আমাদের সীমাবদ্ধ সম্পদের মধ্যে থেকেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া ভালো। সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিশ্রুতি শোনানোর চেয়ে সেই প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য থাকা উচিত। সেক্ষেত্রেই বরং সন্তুষ্ট হলে ভোটাররা প্রতিশ্রুতি প্রদানকারীকে ভোট দিতে উৎসাহীবোধ করবে। আমরা আশা করব, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীরা তাদের নির্বাচনি ইশতেহার সবিস্তারে জনগণের সামনে ব্যাখ্যা করবেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ, নির্বাচনি পরিবেশ যাতে শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দপূর্ণ থাকে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। উত্তেজিত হয়ে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ পরিহার করে যুক্তিসঙ্গত বক্তব্য দ্বারা প্রতিপক্ষকে খণ্ডাতে হবে। সেক্ষেত্রেই শুধু নির্বাচন অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।
