মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর নিশানায় রয়েছে ইরান, কলম্বিয়া, কিউবা ও মেক্সিকোর মতো দেশ। এ ছাড়া ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
এমন ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের’ প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পুরোপুরি নীরব রয়েছেন। যদিও রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু কূটনৈতিক বিবৃতি দিয়েছে, পুতিন নিজে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। অথচ আক্রান্ত ও হুমকির মুখে থাকা দেশগুলোর বেশিরভাগই রাশিয়ার মিত্র। ফলে তাঁর এই নীরবতা পশ্চিমা বিশ্বে নানা প্রশ্ন ও জল্পনার জন্ম দিচ্ছে।
ভেনেজুয়েলায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে তুলে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে রাশিয়ার এস-৩০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তখন কাজ করেনি। মাদুরোর নিরাপত্তায় থাকা কিউবার দেহরক্ষীরা মার্কিন সেনাদের হাতে মারা পড়েছেন।
এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন গ্রিনল্যান্ডের দখলের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন, পরিষ্কারভাবে বলেন তিনি এই পদক্ষেপ না নিলে রাশিয়া ও চীন গ্রিনল্যান্ডে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে–তখনো পুতিন কোনো মন্তব্য করেননি।
মধ্যপ্রাচ্যে এখন রাশিয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরানের ক্ষেত্রেও অবিশ্বাস্যভাবে নীরব পুতিন। যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উসকানি দিয়েছে। তারপর সেই বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগ করলে সামরিক পদক্ষেপ নেবে বলে হুঁশিয়ার করেছে।
ইরান রাশিয়ার অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার জন্য দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বড় জোগানদাতা তেহরান। তাই পুতিনের কাছ থেকে ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থান আশা করা হয়েছিল।
ধারণা করা হচ্ছে , যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেখানে ট্রাম্পকে পাশে পাচ্ছেন পুতিন। প্রায় ৪ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেখানে ট্রাম্প পুতিনের দাবি-দাওয়ার প্রতি সম্মান দেখাচ্ছেন, আর যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ইউরোপীয় মিত্ররা ইউক্রেনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি প্রকাশ্য বিরক্তি জাহির করেছেন ট্রাম্প। তাকে শান্তির পথে বাধা হিসেবে উপস্থাপন করে দেশটিতে দ্রুত নির্বাচনের দাবিও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যেহেতু ইউক্রেন ফ্রন্টে এখন যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া একই মেরুতে, তাই অন্য কোনো ইস্যু নিয়ে আপাতত নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বাড়াতে চাইছেন না পুতিন। আর ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ান সেনারা যেমন অকাতরে প্রাণ দিচ্ছেন, তেমনি এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক ধকলও কম নয়। সবমিলিয়ে যেকোনো মূল্যে এই যুদ্ধ সাফল্য নিয়ে শেষ করতে চান পুতিন। আর সেই সাফল্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হবে দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলের ওপর রাশিয়ার কর্তৃত্ব। আর ট্রাম্পের উদ্যোগেই দীর্ঘ যুদ্ধের ‘সফল পরিসমাপ্তি’ দেখছেন পুতিন।
