ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ছেলের হাতে মারধরের শিকার হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ছেড়ে দিয়েছেন মা-বাবা। মাদক সেবন ও কারবারিতে জড়িত ছেলের নির্যাতনে দিশেহারা বাবা-মা এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে ঘুরছেন। পুলিশে অভিযোগ দিতেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তারা দিশাহীন অবস্থায় রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও থানায় দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের উজানচরনওপাড়া গ্রামে ওই দম্পতির বাড়ি।
শাফি মিয়া একজন কৃষক। দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তাদের সংসার। ছেলে রাকিবুল ইসলাম(২৩) কোনো কাজকর্ম না করে বেশ কয়েক বছর ধরে নেশায়গ্রস্ত হয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠে। এর মধ্যে মাদকদ্রব্য বেচাকেনায় জড়িত হয়ে বড় কারবারি বনে যায়।
পাশপাশি জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে বাবার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চেয়ে না পেয়ে অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে। গত ১৮ ডিসেম্বর মা ঝরনা বেগমের কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে শাবল দিয়ে হামলা চালিয়ে মায়ের ডান হাত ও পা ভেঙে দেয়। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে বাবা শাফি মিয়াকেও মারধর করে। পরে পরিবারের লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
চিকিৎসা শেষে বাড়িতে এলে ফের মারধরের চেষ্টা চালিয়ে হত্যার হুমকি দেয়।
এ ঘটনার পর থেকে বাবা-মা বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখান থেকেই থানায় ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
বাবা শাফি মিয়া বলেন, আমার চোখের সামনে আমার স্ত্রীকে শাবল দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে মাদকাসক্ত ছেলে। বাধা দেওয়ায় আমার শরীরেও হাত তুলে।
যা একজন বাবা হয়ে সহ্য করার মতো না। এখন টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এই জন্যই প্রাণভয়ে বাড়ি ছেড়েছি।
মা ঝরনা বলেন, ‘আমার হাত ও পায়ে শাবল দিয়া আঘাত কইর্যা ভাইঙ্গ্যালছে। হাসপাতালে গিয়া বাড়িত আইলে হেইর্যা(আবার) টেহা চায়। না দিলে খুনের হুমকি দেয়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আযম জানান, একজন উপ-পরিদর্শককে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
