ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সংস্কারসহ কয়েকটি দাবিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনের সামনে কঠোর কর্মসূচি শুরু করেছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা।
রবিবার সকাল ১০টার দিকে ‘বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি’র ব্যানারে শত শত ব্যবসায়ী আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করার সময়ও তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ব্যবসায়ীদের অবরোধে সড়কের এক পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ।
ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি ঘেরাও করেন। এতে চেয়ারম্যানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ রয়েছেন।
একই সঙ্গে রবিবার সন্ধ্যায় আগারগাঁও মোড় থেকে বিটিআরসি ভবনের সামনে পর্যন্ত অন্তত চার জায়গায় আগুন জ্বালিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)-এর সেক্রেটারি আবু সায়ীদ পিয়াস বলেন, ‘আমরা বহুবার সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছি।
কিন্তু একবারও আমাদের ডাকা হয়নি। আলোচনার সুযোগ পেলে সমাধান সম্ভব ছিল। এখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। সারা দেশের খুচরা ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখেছেন।
’
ব্যবসায়ীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে এনইআইআর সংস্কার, সিন্ডিকেট প্রথা বাতিল এবং মোবাইল ফোন আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করা। তাদের অভিযোগ, এনইআইআর বাস্তবায়ন হলে লাখো ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নতুন এই নিয়মের ফলে একটি বিশেষ গোষ্ঠী লাভবান হবে এবং বাড়তি করের চাপে গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইলের দাম বেড়ে যাবে।
এ বিষয়ে তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের (শেরেবাংলানগর জোন) সহকারী কমিশনার (এসি) জাকির হোসেন বলেন, বিটিআরসি ভবনের সামনে মোবাইল ব্যবসায়ীদের সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা ডাইভারশন দিয়ে অন্য রাস্তায় যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করেছি।
উল্লেখ্য, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা জোরদার এবং অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ব্যবহার প্রতিরোধে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা। এই ব্যবস্থার ফলে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নিবন্ধনবিহীন, চুরি হওয়া বা অনুমোদনহীনভাবে আমদানি করা মোবাইল ফোন কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। আর সেই সময়সীমা ঘনিয়ে আসতেই বড় ধরনের আন্দোলনে নেমেছেন ব্যবসায়ীরা।
