ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু চলমান দুর্নীতি মামলাগুলো থেকে মুক্তি পেতে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
রোববার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, এই অনুরোধের ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব’ থাকায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মতামত নেওয়া হবে।
গত পাঁচ বছর ধরে ঘুষ গ্রহণ, প্রতারণা ও আস্থাভঙ্গের অভিযোগে তিনটি মামলায় বিচারাধীন আছেন নেতানিয়াহু। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মামলার রায় পর্যন্ত যেতে চাইলেও ‘জাতীয় স্বার্থে’ ভিন্ন পথ বেছে নেওয়া প্রয়োজন হয়েছে।
ইসরায়েলি বিরোধী দল বলছে, ক্ষমা চাইতে হলে নেতানিয়াহুকে আগে দোষ স্বীকার করতে হবে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হারজগকে নেতানিয়াহুকে সম্পূর্ণ ক্ষমা দেওয়ার আহ্বান জানান। তখন হারজগ বলেন, ক্ষমা চাইলে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিতে হবে।
রোববার প্রকাশিত চিঠিতে নেতানিয়াহুর আবেদন তুলে ধরে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, এই ব্যতিক্রমী অনুরোধের গুরুত্ব বিবেচনায় সেটি জনসমক্ষে আনা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্ষমতাশালী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উপহার গ্রহণের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়া, একটি পত্রিকার প্রচার বৃদ্ধি করতে সহায়তার প্রস্তাবের বদলে ইতিবাচক সংবাদ কাভারেজ চাওয়া, এবং একটি টেলিকম কোম্পানির মালিকের স্বার্থে নীতিগত সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে সংবাদমাধ্যমে সুবিধাজনক কাভারেজ পাওয়া। তিনি এসব অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করছেন।
রোববার প্রকাশিত বার্তায় নেতানিয়াহু দাবি করেন, মামলাগুলো ধসে পড়ছে এবং বিচার প্রক্রিয়া দেশকে ভেতর থেকে বিভক্ত করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হলে দেশে উত্তেজনা কমবে এবং জাতীয় ঐক্য বাড়বে।’ সপ্তাহে তিন দিন আদালতে হাজিরার দাবি ‘অসাধ্য’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী নেতাদের মতে, নেতানিয়াহু নিজের স্বার্থকে রাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতে চাইছেন। বিরোধী নেতা ইয়ায়ির লাপিদ বলেন, দোষ স্বীকার, অনুশোচনা ও রাজনৈতিক জীবন থেকে সরে দাঁড়ানো ছাড়া ক্ষমা সম্ভব নয়। বামঘরানার রাজনীতিবিদ ও ইসরায়েলি বাহিনীর সাবেক উপপ্রধান ইয়ায়ির গালান বলেন, ‘শুধু দোষীরাই ক্ষমা চায়।’
ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট দণ্ড মওকুফ, হ্রাস বা পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখেন। এমনকি আদালতের রায় আগেই, জনস্বার্থে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে কারও প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করা সম্ভব।
নেতানিয়াহুর লিকুদ দল তার প্রতি ক্ষমা ঘোষণার পক্ষে। তবে দেশটির এক বড় অংশ—বিশেষত বামঘরানার নাগরিকরা—মনে করছেন, এটি রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের শক্তিশালী বিচারব্যবস্থার ভাবমূর্তির জন্য আরেকটি ধাক্কা হবে।
