গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বিদেশিদের কাছে ৪০–৪৫ বছরের জন্য বন্দর ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এটি দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। তিনি অভিযোগ করেন, চুক্তির মাধ্যমে সরকারি উপদেষ্টারা ‘কমিশন বাণিজ্য’ করছেন। ক্ষমতায় এলে পরবর্তী সরকার প্রত্যেক উপদেষ্টা ও কর্মকর্তার দুর্নীতির তদন্ত করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভায়না বাজারে দলীয় সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
তিনি বলেন, সরকারের উপদেষ্টা ও প্রেস সচিব অনেকে বলছেন ওই বন্দরে নাকি চাঁদাবাজি হয়। চাঁদার টাকা ভাগ নেওয়ার জন্য নেতারা এমন কথা বলছেন। কিন্তু বিদেশিদের কাছে বন্দর তুলে দিয়ে আপনারা যে ‘কমিশন বাণিজ্য’ করছেন না—তার নিশ্চয়তা কী? উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবর আমরা শুনিনি? বড় বড় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবর শুনিনি? এখন হয়তো এগুলোর তদন্ত হচ্ছে না। কিন্তু এতটুকু বলছি—প্রত্যেক উপদেষ্টার সম্পদের তদন্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে তারা মানবিক করিডোরের বিরোধিতা করেছিলেন, বিদেশিদের কাছে বন্দর তুলে দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। ‘টেকনিক্যাল সাপোর্ট’ দরকার হলে যে কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হবে, তাদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে কোন কাজগুলো করতে হবে। আর যোগ্য টেকনিশিয়ান দিয়ে বন্দর পরিচালনা না করলে তাদের ইজারা বাতিল করা হবে।
রাশেদ বলেন, এই সরকারের তিনটি দায়িত্ব—বিচার, সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সরকার নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে না। সব দলের প্রার্থীরা সঠিকভাবে গণসংযোগ করতে পারছেন না। তিনি নিজেও নানা রকম হয়রানি ও বাধার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেন। তার দাবি, নির্বাচনের পরিবেশ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তাহলে সরকারের কাজ কী? বন্দর বিনিময় করা? বিদেশিদের কাছে ৪০ বা ৪৫ বছরের জন্য বন্দর দিয়ে দেওয়া? জনগণ কি এটি চেয়েছিল? এগুলো সরকারের দায়িত্ব ছিল না, সরকার আগ বাড়িয়ে এসব করেছে।
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আওয়ামী ‘ফ্যাসিস্ট’ এবং তাদের ‘ডামি এমপিরা’ (যারা স্বতন্ত্র লীগ নামে অংশ নিতে চায়) নির্বাচনে সুযোগ পাবে না। তার দাবি, গণঅভ্যুত্থানের শক্তিরাই দেশ চালাবে।
রাশেদ আরও বলেন, তারা শুনছেন ভারতের নির্দেশনায় আওয়ামী লীগের ডামি এমপি ও নেতারা স্বতন্ত্র লীগ নামে ভোটে অংশ নিতে চাইছেন। তিনি ঘোষণা করেন, কোনো ডামি এমপি বা স্বতন্ত্র লীগ নেতাকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। জনগণ সচেতন ও সোচ্চার রয়েছে। তাই যারা ডামি এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চান, তাদের তিনি হুঁশিয়ারি করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। খালেদা জিয়াকে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ ও ‘জাতীয় ঐক্যের প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, তিনি কখনোই হাসিনা সরকারের সঙ্গে আপস করেননি; বরং ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। ভারতকে খুশি করতে মিথ্যা মামলায় তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
