ক্ষমতায় আসতে পারলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫–এর দ্বিতীয় পর্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে বড় চাহিদা হচ্ছে কর্মসংস্থান। আমাদের টোটাল ফোকাসটা থাকছে বিনিয়োগের ওপর। দেশি–বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে এক কোটি কর্মসংস্থান। যেকোনো ইকোনমিকে (অর্থনীতিকে) সাসটেইনেবল (টেকসই) হতে হলে আপনাকে বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রোথ (উন্নয়ন) করতে হবে।
টাকা ছাপিয়ে ও ঋণ নিয়ে কোনো অর্থনীতি দীর্ঘস্থায়ী হয় না উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, টাকা ছাপিয়ে ও ঋণ নিয়ে কোনো অর্থনীতি টেকসই হয় না। অর্থনীতিকে টেকসই করতে হলে বিনিয়োগ করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশীয় অর্থনীতির সমস্যার মূল কারণ হলো পৃষ্ঠপোষকতামূলক রাজনীতি ও সুবিধাভোগী অর্থনীতি, যার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছায় না। বিএনপি অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করতে চাইছে, যাতে দেশের প্রত্যেক নাগরিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে যাঁরা ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের সঙ্গে জড়িত, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পণ্যের মান ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়নি। এ জন্য বিএনপি তাঁদের জন্য ঋণ, কাঁচামাল, দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজাইনিং, ব্র্যান্ডিং ও অনলাইন মার্কেটিং–সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা করছে। উদ্যোক্তারা ই–কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। এর ফলে শুধু কর্মসংস্থানই হবে না, দেশের জিডিপি বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে।
টাকা ছাপিয়ে ও ঋণ নিয়ে কোনো অর্থনীতি দীর্ঘস্থায়ী হয় না উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, টাকা ছাপিয়ে ও ঋণ নিয়ে কোনো অর্থনীতি টেকসই হয় না। অর্থনীতিকে টেকসই করতে হলে বিনিয়োগ করতে হবে।
আমীর খসরু বলেন, যুবসমাজের আত্মকর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। দেশে যুবকদের বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে তারা দেশের অর্থনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন। প্রতিটি জেলায় স্কিল ডেভেলপমেন্ট (দক্ষতা উন্নয়ন) সেন্টার স্থাপন করা হবে।
সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগও নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজার অর্থনীতিতে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। এ কারণে ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাজারের চেয়ে ব্যাংকনির্ভর বেশি। আবার কাঙ্ক্ষিত বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে পুঁজিবাজারের আইনকানুন সহজ করতে হবে। পাশাপাশি যাঁরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্বে থাকবেন, তাঁদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হতে হবে। বিশ্ববাজার সম্পর্কে জানতে হবে, বুঝতে হবে ও যোগাযোগ থাকতে হবে। তাই বিএনপি সরকারে এলে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে অর্থনীতিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করবে।
আমীর খসরু বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চারটি মূলনীতি অনুসরণ করা হবে। প্রথমত, বিনিয়োগ হবে ভ্যালু ফর মানি অর্থাৎ বিনিয়োগের তুলনায় যথাযথ লাভ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা) নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, বিনিয়োগ থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে হবে। চতুর্থত, পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি উপেক্ষা করা যাবে না। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি উন্নয়নশীল ও টেকসই করতে এ চারটি নীতি পালন অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারের লক্ষ্য হবে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া। এই লক্ষ্য কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়; বরং এটি বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা। বিনিয়োগের মাধ্যমে শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও সমৃদ্ধি আনা হবে।
