কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে অন্তত তিন সপ্তাহ ধরে কেউ দেখা করতে পারছেন না, ফলে কারাগারের অভ্যন্তরে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় ও আফগান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাইটগুলোতে তাকে হত্যার গুজব ছড়িয়ে পড়লে আদিয়ালা কারাগারের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। পিটিআইয়ের অভিযোগ, সেখানে ইমরান খানের তিন বোনকে নির্মমভাবে পিটিয়েছে পুলিশ। খবর এনডিটিভির।
ইমরান খানের বোন নরীন খান, আলীমা খান ও উজমা খান অভিযোগ করেছেন, রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বাইরে জড়ো হয়ে তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়েছিলেন। এ সময় তাদের ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থকদের ওপর পুলিশ হামলা চালায়।
পাঞ্জাব পুলিশের আইজিপি উসমান আনোয়ারকে পাঠানো এক চিঠিতে নরিন খান এই হামলাকে ‘নির্মম ও পরিকল্পিত’ বলে অভিযোগ করেছেন।
৭১ বছর বয়সী নরিন জানান, তারা যখন তার ভাইয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন, তখন হঠাৎ এলাকা অন্ধকার করে দেওয়া হয় এবং স্ট্রিটলাইট বন্ধ করে পুলিশের নির্মম হামলা শুরু হয়। তিনি অভিযোগ করেন, আমার চুল ধরে টেনে মাটিতে ফেলে রাস্তা দিয়ে টেনে নেওয়া হয়। এতে আমি আঘাত পেয়েছি।
তিনি আরও জানান, সেখানে উপস্থিত অন্যান্য নারীদেরও থাপ্পড় মারা ও টেনেহিঁচড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে গত তিন বছর ধরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার বলপ্রয়োগের ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খান। পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইমরান খানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে। অন্যদের সঙ্গে দেখা করা, এমনকি বই, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং আইনজীবীদের সঙ্গেও সাক্ষাতের অনুমতি সীমিত করা হয়েছে।
আইনজীবী খালিদ ইউসুফ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, এখানে আইনের কোনো নিয়ম নেই। জঙ্গলের আইন চলছে, যেখানে শুধু শাসকেরই অধিকার থাকে।
পিটিআই আরও অভিযোগ করেছে, খাইবার-পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোয়েল আফ্রিদি সাতবার চেষ্টা করেও ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পাননি। তাদের দাবি, জেল কর্তৃপক্ষকে একজন সেনা কর্মকর্তা নিয়ন্ত্রণ করছেন।
