প্রয়াত নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর পর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৯ বছর। কিন্তু এখনও তার মৃত্যুর রহস্য উন্মোচিত হয়নি। সম্প্রতি আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই ‘স্বপ্নের নায়কের’ মৃত্যু। সময়ের এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম একের পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি তুলে ধরেছেন, যা আবারও প্রশ্ন তুলেছে এই মৃত্যু আত্মহত্যা না কি পরিকল্পিত হত্যা সেই বিতর্কে।

আলমগীর কুমকুমের অভিযোগ, সালমান শাহর মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছেন তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। তিনি বলেন, সালমানের মৃত্যুর পর অনেক প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি, যেগুলোর কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারেনি।

তিনি যে দশটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: 

. মৃত্যুর আগে সালমান শাহর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি আজও পাওয়া যায়নি কেন?

. মৃত্যুর আগের কয়েক দিনের কল রেকর্ড তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি কেন?

. ফ্ল্যাটের জানালায় আঙুলের ছাপ, ছেঁড়া পর্দা, ও অপরিচিত ডানহিল সিগারেট এগুলোর রহস্য কী?

.তাড়াহুড়ায় সে হাফ প্যান্টের স্টিকারও খোলা হয়নি দেখেছিলাম। হাসপাতালে না নিয়ে দুই চারজনকে দিয়ে নিথর শরীরে তেল মালিশ করিয়েছে সামিরা। এ তেল মালিশের কারণ কী?

. মৃত্যুর পরপরই পুলিশ কেন কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ বা রিমান্ডে নেয়নি?

. সালমান শাহর মৃত্যুর পর প্রথম যখন ফ্ল্যাট খোলা হয় তখন ডিপিডিসি বজলুর করিম সাহেব ও পুলিশ কর্মকর্তারা ছিলেন। তারা প্রথমে ফাঁসির দড়িটি মাপেন। সালমান শাহ যতটুকু লম্বা এবং ওর গলায় যেখানে ফাঁসির দাগ সে অনুযায়ী ঝোলানো রশি পরিমাপ করে দেখা যায়, সালমান শাহর পা মাটিকে স্পর্শ করে। তাহলে কীভাবে সালমান শাহর মৃত্যু হলো?
 
. বাথরুমে পাওয়া গেছে লক করা একটি স্যুটকেস। তাতে ছিল ভেজা কাপড়। এর রহস্য কী?

.ফ্লোরে পাওয়া গেছে ডানহিল সিগারেট। কোনো ভদ্রলোক সিগারেট খেলে সেটি কি তার নিজের ঘরে ফ্লোরে ফেলবে, প্রশ্ন তার। তিনি আরও যোগ করে বলেন, এ সিগারেট সালমান শাহ খায় না। তাহলে ওই সিগারেট কার?

.পাশের বাসার প্রতিবেশি সাক্ষী দিয়েছে, মধ্যরাতে সালমান শাহর ড্রেসিং রুমে মারামারি হয়েছে তারা জানালা দিয়ে দেখেছে। তবে স্পষ্ট দেখেননি। তারা মনে করেছেন, স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া। ওই দিন ড্রেসিং রুমে কী ঘটেছিল?

. পরিবারের কেউ মারা গেলে পুলিশ মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে পরিবারের সদস্যদের জেরা করে। প্রয়োজনে রিমান্ডে নেবে। এটাই আইনি প্রক্রিয়া। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো সালমানের হঠাৎ মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া হয়। এ কারণে বাড়ির ৪ জনের কাউকেই (দুই গৃহকর্মী ডলি ও মনোয়ারা, কাজের লোক আবুল, স্ত্রী সামিরা) থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। এর কারণ কী? 

আলমগীর কুমকুমের ভাষায়, “এমন অনেক ঘটনার ব্যাখ্যা আজও পাইনি আমরা। সালমান আত্মহত্যা করতে পারে না এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যা।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের ইস্কাটন প্লাজার একটি ফ্ল্যাটে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সালমান শাহর মরদেহ। স্ত্রী সামিরা হক দাবি করেন, এটি আত্মহত্যা। কিন্তু সালমান শাহর পরিবার বরাবরই এটি হত্যা বলে অভিযোগ করে আসছে।

দীর্ঘ ২৯ বছর মামলা চলার পর সম্প্রতি অপমৃত্যু মামলা রূপ নিয়েছে হত্যা মামলায়। এই হত্যা মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version