বহুল আলোচিত জুলাই সনদে স্বাক্ষর সম্পন্ন হলেও অংশ নেয়নি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী এই দলটি শুধু সনদে স্বাক্ষর থেকে বিরতই থাকেনি, পুরো অনুষ্ঠান থেকেও দূরে থেকেছে।
দলটির দাবি, এই সনদ কেবল আনুষ্ঠানিকতা, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই—ফলে এটি ‘জুলাইয়ের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা’।
তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত স্বাক্ষর নয়—এমন অবস্থান জানিয়ে এনসিপি চলতি সপ্তাহেই রাজপথে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে দলটি বলেছে, ঐকমত্য কমিশন যদি আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানায়, তারা তাতে অংশ নেবে।
দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, “আমরা এই দাবিতে রাজপথে কর্মসূচি করব। যে কোনো মূল্যে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি আদায় করতে হবে। না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা তা প্রতিহত করব।”
সরকারের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, এনসিপির উত্থাপিত দাবি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং অভ্যন্তরীণভাবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এজন্যই ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ তৃতীয় দফায় বাড়ানো হয়েছে।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, “আইনগত ভিত্তি ও বাস্তবায়ন রূপরেখা স্পষ্ট না করেই জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এতে গণভোট বা বাস্তবায়ন আদেশের উল্লেখ নেই, বরং কিছু প্রস্তাব সংবিধানের মৌল কাঠামো লঙ্ঘন করছে।”
দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, “আইনি ভিত্তি ছাড়া আমরা কোনোভাবেই স্বাক্ষর করব না। তবে আলোচনা ও রাজপথ—দুই দিকেই আমাদের কর্মসূচি চলবে।”
শনিবার দুপুরে ঢাকার বাংলামটরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই সনদে আইনি ভিত্তি না থাকলে এর কোনো মূল্য বা অর্থ থাকবে না। এটা জাতির সঙ্গে এক ধরনের গণপ্রতারণা ও প্রহসন।”
তিনি আরও বলেন, “সংবিধান পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবশ্যই আইনগত বৈধতা থাকতে হবে। কিন্তু জুলাই সনদে তা অনুপস্থিত।”
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, “কিছু রাজনৈতিক দল পুরোনো ফ্যাসিস্ট কাঠামো টিকিয়ে রাখতে বিদেশি প্রভাব ও আপসের পথে হাঁটছে। যারা সনদে অংশ নিয়েছে, তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বর্তমান রাষ্ট্রপতি জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায় বহন করেন না। তাই তার পক্ষ থেকে জুলাই সনদের সাংবিধানিক আদেশ জারি নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।”
এ সময় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানান, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির দাবিতে তারা রাজপথে কর্মসূচি নিয়েছে। তিনি বলেন, “শুরুতে অনেক দল এই আইনি ভিত্তি নিয়ে আগ্রহী ছিল না, শুধু রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবেই সনদ রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা চাই এর বৈধতা নিশ্চিত হোক।”
