প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ১৭ কোটি মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে। একইসঙ্গে, মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকেও আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) ইতালির রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সদর দফতরে আয়োজিত ‘বিশ্ব খাদ্য ফোরাম (WFF) ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা ধান উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে আছি ধান, সবজি ও স্বাদুপানির মাছ উৎপাদনে। কৃষকরা ফসলের নিবিড়তা ২১৪ শতাংশে উন্নীত করেছেন এবং আমরা জলবায়ু সহনশীল ১৩৩ প্রজাতির ধান উদ্ভাবন করেছি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ করেছি, ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দিচ্ছি, শক্তিশালী খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি, অপুষ্টি কমিয়েছি, খাদ্যাভ্যাসে বৈচিত্র্য এনেছি এবং কৃষিকে সবুজ করেছি— মাটি, পানি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করছি।
বৈশ্বিক খাদ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পূর্ণ সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গঠনের জন্য ছয় দফা প্রস্তাব দেন তিনি।
বৈশ্বিক খাদ্য ও অর্থনৈতিক কাঠামো সংস্কারের ছয় দফা প্রস্তাবে অধ্যাপক ইউনূস প্রথমেই বলেন, ‘যুদ্ধ বন্ধ করুন, সংলাপ শুরু করুন এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে খাদ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন’—এর মাধ্যমে ক্ষুধা ও সংঘাতের দুষ্টচক্র ভাঙতে হবে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অর্থায়নের অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টিকে থাকার সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করতে হবে।
তৃতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেন, আঞ্চলিক খাদ্য ব্যাংক গঠন করে খাদ্য সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল রাখতে হবে।
চতুর্থ প্রস্তাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অর্থায়ন, অবকাঠামো ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে সহায়তা দিতে হবে।
পঞ্চম প্রস্তাবে তিনি রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাণিজ্যনীতিকে খাদ্য নিরাপত্তার সহায়ক হতে হবে, বাঁধা নয়।
ষষ্ঠ প্রস্তাবে তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের তরুণ কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জন্য।
এদিকে রোমে আজকের কর্মসূচি অনুযায়ী অধ্যাপক ইউনূসের গ্লোবাল অ্যালায়েন্সের অফিস পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। রোমের মেয়র রবার্তো গুয়ালতিয়েরির সঙ্গে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে এবং জিবুতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
এদিকে রোমে আজকের কর্মসূচি অনুযায়ী অধ্যাপক ইউনূসের গ্লোবাল অ্যালায়েন্সের অফিস পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। রোমের মেয়র রবার্তো গুয়ালতিয়েরির সঙ্গে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে এবং জিবুতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
দিনশেষের কর্মসূচি অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে এফএও মহাপরিচালক ড. কু দোংইউ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
