গত বৃহস্পতিবার ভারতের তামিলনাড়ুর মাদুরাই জেলায় অনুষ্ঠিত এক মহাসমাবেশে মানুষের ঢল নেমেছিল। লাখো ভক্ত-সমর্থকের উচ্ছ্বাস আর ভালোবাসায় ভাসলেন দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়। সেই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির বিরুদ্ধে হুংকার ছুড়ে দিয়ে মুহূর্তেই জনতার গর্জন কাঁপিয়ে দেন এই জনপ্রিয় নায়ক।
এটি ছিল তার গড়া রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (টিভিকে)-এর মহাসমাবেশ। সেখানেই স্পষ্ট ভাষায় জানান নিজের অবস্থান— অন্যায় ও অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন তিনি। বিজয়ের ভাষায়, “আমাদের একমাত্র আদর্শগত শত্রু বিজেপি। আজ আমরা ফ্যাসিবাদী বিজেপির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছি।”
যদিও ভারতের মূলধারার গণমাধ্যম এ বক্তব্য এড়িয়ে গেছে, তবে দক্ষিণ ভারতের স্থানীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে তার বক্তৃতার ভিডিও ঝড় তুলেছে। সেখানে দেখা গেছে, কমলা-হলুদের ওড়না পরে সাহসী নেতার ভঙ্গিতে জনতার অভিবাদন গ্রহণ করছেন বিজয়; আর লাখো মানুষের উল্লাসে মুখর হয়ে উঠেছে মাদুরাইয়ের জনপদ।
শুধু ভারতের ভক্তরা নন, বাংলাদেশের দর্শকরাও বিজয়ের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকের মতে, সিনেমায় যেমন তিনি নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, বাস্তব রাজনীতিতেও ঠিক তেমনভাবেই জনতার নায়ক হয়ে উঠছেন। সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য এসেছে— “সিনেমার নায়ক থেকে এখন তিনি বাস্তবের নায়ক, মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।”
কেন হঠাৎ রাজনীতিতে সক্রিয় বিজয়?
আসলে ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকতেই রাজনীতিতে নাম লেখান যোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, যাকে ভক্তরা ভালোবেসে ডাকেন থালাপতি (সেনাপতি)। তিনি ২০২৩ সালে গড়েন নিজস্ব দল টিভিকে। দল ঘোষণার মাত্র আট মাস পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথম জনসভায় যোগ দেন এবং দ্রুতই তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আলোড়ন তোলেন। ঘোষণা দেন, আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে মাদুরাই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
একসময় একের পর এক হিট সিনেমার মাধ্যমে কোটি দর্শকের মন জয় করা এই অভিনেতা মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক ও আলো-ঝলমলে ক্যারিয়ার সরিয়ে রেখে নেমেছেন রাজনীতির মাঠে। লক্ষ্য একটাই— ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে জনগণের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা। তার বিশ্বাস, “রাজনীতি কোনো পেশা নয়, রাজনীতি হলো জনসেবা।”
