জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যকে “অসত্য” আখ্যা দিয়ে পাল্টা দাবি তুলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। । তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট রাতের প্রেস ব্রিফিংয়ে তারা স্পষ্টভাবে একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকারের প্রস্তাবনা দিয়েছিল। এরপর ভার্চুয়ালি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকেও এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। নাহিদ ইসলাম তার ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানান।
তাদের দাবি, ওই বৈঠকে তারেক রহমান এই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি, বরং নাগরিক সমাজের সদস্যদের দিয়ে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের পরামর্শ দেন। সেখানে ছাত্রনেতারা প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও প্রস্তাব করেন।
পরবর্তীতে, ৭ আগস্ট ভোরে মির্জা ফখরুলের বাসায় উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে সরাসরি আলোচনাও হয়। এমনকি উপদেষ্টাদের নাম চূড়ান্ত করার আগেও তারেক রহমানের সঙ্গে আরেক দফা ভার্চুয়াল বৈঠক হয় বলে জানায় তারা।
এদিকে ছাত্রশক্তির গঠন প্রক্রিয়ায় শিবিরের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। শিবির নেতা সাদিক কায়েম সম্প্রতি একটি টকশোতে দাবি করেন, ছাত্রশক্তি গঠনে শিবিরের নির্দেশ ছিল এবং সংগঠনটি শিবিরের ইনস্ট্রাকশনে কাজ করত। তবে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা এই বক্তব্যকে সরাসরি “মিথ্যাচার” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তাদের ভাষায়, ‘গুরুবার আড্ডা’ পাঠচক্র, ঢাবির কিছু পদত্যাগী ছাত্র এবং জাবির একটি স্টাডি সার্কেলের যৌথ উদ্যোগেই ছাত্রশক্তি গঠিত হয়। ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিনের রাজনীতির ফলে সকল পক্ষের সাথে যোগাযোগ থাকলেও শিবির কখনোই তাদের সংগঠনের নীতিনির্ধারণী বা সাংগঠনিক অংশীদার ছিল না।
তারা আরও দাবি করে, সাদিক কায়েম কখনোই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন না। শুধুমাত্র ৫ আগস্ট প্রেস ব্রিফিংয়ে শিবিরের সহযোগিতার কারণে তাকে জায়গা দেওয়া হয়েছিল। অথচ পরবর্তীতে তিনি এবং তার অনুসারীরা প্রচার চালান যে, ঢাবি শিবিরই এই আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব দিয়েছিল।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগটি আসে ২ আগস্ট রাতে ঘটে যাওয়া কথিত ‘সামরিক ক্যু’ নিয়ে। ছাত্রনেতাদের ভাষায়, সেদিন জুলকারনাইন সায়ের ও তার অনুসারীরা সামরিক বাহিনীর একটি অংশকে ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিলেন। এজন্য ছাত্রনেতাদের ফেসবুকে সরকার পতনের একদফা ঘোষণার জন্য চাপ দেওয়া হয়। অথচ আন্দোলনকারী ছাত্ররা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এ ধরনের ঘোষণা জনগণের মঞ্চ থেকে আসতে হবে এবং সামরিক হস্তক্ষেপের কোনোরকম সুযোগ দেওয়া যাবে না।
তাদের ভাষায়, “আমরা প্রথম থেকেই পরিষ্কার ছিলাম যে সেনাবাহিনী বা তাদের সমর্থিত কোনো শক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর চলবে না। এতে ১/১১-র পুনরাবৃত্তি ঘটবে এবং আওয়ামী লীগ ফিরে আসার পথ তৈরি হবে।”
শেষ পর্যন্ত সায়ের গোষ্ঠী নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে বলে অভিযোগ করেন ছাত্রনেতারা। তাদের মতে, “সায়ের গং কল রেকর্ড ফাঁস, নজরদারি, চরিত্র হনন, অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডার মতো বহু কৌশল ব্যবহার করছে। তবে মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে কেউ টিকে থাকতে পারে না।”