ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করেছে ইসরায়েল। সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় দেশটির বিমানবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক গোয়েন্দা বিভাগকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম।
সোমবার (২ নভেম্বর) ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে রয়া নিউজ। সংবাদমাধ্যম ওয়ালার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে আবারও সংঘাত শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখাকে বাড়তি প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক নিরাপত্তা এবং অভিযান পরিচালনা নিয়ে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতির অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানে বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে ওয়াশিংটন আগেভাগেই তেল আবিবকে বিষয়টি জানাবে—এমন একটি সমঝোতা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের আগাম তথ্য পেলে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েল নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রস্তুত করার বাড়তি সময় পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনা সামনে আসার মধ্যেই ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রতিবেদনগুলো প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধ এলে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলি ও মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, আগের সপ্তাহে ইসরায়েলের নেভাতিম ও উভদা বিমানঘাঁটিতে দশটির বেশি মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান পৌঁছেছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, জেরুজালেম পোস্টের আরেকটি প্রতিবেদনে ওয়ালা ও মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এমনকি ইরানি সরকারের পতনের লক্ষ্য সামনে রেখে যৌথ সামরিক অভিযানের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু নিয়ে হালনাগাদ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে নতুন একটি তালিকা তুলে দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন কোনো হামলার সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, কিংবা দুই দেশের মধ্যে বর্ণিত সমন্বয়ের বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
