ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে। চাইলে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই সেগুলোতে হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে কয়েকটি স্থাপনা এখনো সামরিক পদক্ষেপের আওতায় রয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্থানের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, এসব লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের খুব বেশি সময় লাগবে না। পুরো অভিযান দ্রুত সম্পন্ন করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চলতি সপ্তাহেই নতুন করে হামলা চালানো হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি কিছু জানাননি। বরং তিনি বলেন, সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নিলেও আগেভাগে তা সাংবাদিকদের জানানো হবে না। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা মোটামুটি ভালোভাবে এগোচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে তেহরানের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মোজতবা খামেনি সামরিক কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা নতুন করে সাজানোরও নির্দেশ দিয়েছেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দৃশ্যমান এবং গোপন সামরিক সম্পদ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এটি ছিল তাঁর প্রথম বৈঠক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে—এমন আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প সম্ভাব্য আরেকটি সীমিত সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যার নাম তিনি ‘ছোট এপিক ফিউরি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কয়েকটি উপসাগরীয় আরব দেশকে সতর্ক অবস্থানে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সামরিক লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা রাখে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অভিযান চালানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করেছেন রুবিও।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান।
পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফার যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ৮ জুলাই ট্রাম্প সেটিকে কার্যকর নয় বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা উৎখাতের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। ফলে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা বাড়ছে।
