বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি ছিলেন প্রশিক্ষিত সাঁতারু। তাই তাঁর পানিতে ডুবে মৃত্যুর বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারছেন না বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম। তাঁর ধারণা, ছেলেকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
শনিবার প্রথম আলোকে দেওয়া বক্তব্যে তাহসিফের বাবা বলেন, তাঁর ছেলে কারও ভয়ে দৌড়ে পালানোর মতো পরিস্থিতিতে পড়বেন, এমনটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাছাড়া তাঁকে ধাওয়া করার মতো কেউ ছিল বলেও তিনি মনে করেন না।
গত মঙ্গলবার এক বন্ধুর ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। পরদিন ঢাকার উত্তরখানের তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলটি স্থানীয়ভাবে রাজবাড়ী ঘাট নামে পরিচিত।
এ ঘটনায় গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার পর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তাহসিফকে হত্যার পর পরিচয় ও আলামত গোপন করতে তাঁর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে তাহসিফের পরিচিত ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ হিসেবে শনাক্ত করেন।
পরে গত বৃহস্পতিবার দীপকে হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার দেখায় নৌ পুলিশ। এরপর আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন তাহসিফ ও দীপ একসঙ্গে ছিলেন। দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, মোটরসাইকেলটি তাহসিফের।
তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার ফলাফলের পর।
