মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাড়ির পানি নিষ্কাশন নিয়ে বিরোধের জেরে সাবানা বেগমকে হত্যার মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও দুই আসামির একজনকে সাত বছর এবং অন্যজনকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৭ এপ্রিল শ্রীমঙ্গল উপজেলার পূর্ব লইয়ারকুল গ্রামে বাড়ির পানি নিষ্কাশন নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে সাবানা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই হেলাল মিয়া ১৪ জনকে আসামি করে শ্রীমঙ্গল থানায় হত্যা মামলা করেন।
যাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন পূর্ব লইয়ারকুল গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে মো. নাসির মিয়া (২৬) ও গিয়াস মিয়া (২৫) এবং মৃত মতন মিয়ার ছেলে বিল্লাল মিয়া (৩০) ও দুলাল মিয়া (২৬)। আদালত তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন।
রায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্য দুই আসামির কারাদণ্ড
মামলার আরেক আসামি মহিবুর রহমান ওরফে অমৃত মিয়া (৫০)-কে দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অন্য আসামি জয়নাল আবেদীন (৫৫)-কে দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁকে অতিরিক্ত ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালত তাঁদের আগে হাজতে থাকার সময় সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পাঁচজন
এ মামলায় জাবেদ মিয়া, হাসি বেগম, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল বাসার মিয়া, মো. আলী ইসলাম ও নাজমিন বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালতের আদেশে অর্থদণ্ড থেকে আদায় করা অর্থ এজাহারকারীর পরিবারের সদস্যদের দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, জমিজমা ও বাড়ির পাশের নালা দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়া নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে সাবানাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত রায় দিয়েছেন। রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।
