জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা আর নেই। ৯০ বছর বয়সে টোকিওতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এ খবর নিশ্চিত করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৩৬ সালের ১৬ জুলাই জাপানের গুন্মা প্রিফেকচারের তাকাসাকি শহরে জন্মগ্রহণ করেন ফুকুদা। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি একটি তেল কোম্পানিতে কাজ করেন। পরে বাবার রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর বাবা তাকেও ফুকুদাও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
১৯৯০ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইয়াসুও ফুকুদা। এরপর টানা সাতবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে নিজের অবস্থান ধরে রাখেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারির দায়িত্বও পালন করেন।
২০০৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের পদত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন ফুকুদা। তখন তাঁর বয়স ছিল ৭১ বছর। তাঁর বাবাও একই বয়সে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। বাবা ও ছেলে—দুজনেরই জাপানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেন ফুকুদা। চীনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের সঙ্গে তাঁর কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সফর বিনিময় দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া পূর্ব চীন সাগরের গ্যাসক্ষেত্র যৌথভাবে উন্নয়নের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল।
২০০৮ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত জি-৮ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তিনি। ওই সম্মেলনে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে একই বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ফুকুদা। পরে ২০১২ সালে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফুকুদার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। শোকবার্তায় তিনি ফুকুদার অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করেন এবং জাপানের জনগণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির মর্যাদা বৃদ্ধিতে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন।
ইয়াসুও ফুকুদার রাজনৈতিক জীবন জাপানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক আলোচনায় তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
