ইউরোপে চলমান বিক্ষোভের উত্তাপ এবার ছড়িয়ে পড়েছে ইতালিতেও। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রোম, তুরিন ও বোলোনিয়াসহ একাধিক শহরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। এদিকে বিক্ষোভের আড়ালে সহিংসতা চালানোর চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি।
তুরিনে বিক্ষোভ চলাকালে একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বোতল ও আতশবাজি ছুড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রাজধানী রোমেও একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে মিছিল চলার সময় পুলিশের দিকে বোতল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। তুরিন ও রোমের এসব সংঘর্ষের খবর প্রকাশ করেছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এবং ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসা।
বোলোনিয়াতেও বিক্ষোভকারীদের একাংশের বোতল ও পটকা নিক্ষেপের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের পিছু হটিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মিলান ও ফ্লোরেন্সেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় এসব শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশে বাধা দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনাগুলো তদন্ত করতে ইতালির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহান্তে সংঘটিত সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে মিলান ও পার্শ্ববর্তী মনজা শহরসহ মোট ২২টি শহরের দেড় শতাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের সদস্যদের হুমকি দেওয়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা, যানবাহন ভাঙচুর এবং বিভিন্ন ভবনে অগ্নিসংযোগের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। তদন্তের মাধ্যমে সম্ভাব্য সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি জানিয়েছেন, যেসব শহরকে নিরাপত্তার দিক থেকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে, সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও সতর্ক করেছেন, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে কেউ সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে ইতালির একাধিক শহরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তা অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে রাস্তায় বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ, অন্যদিকে অতীতের সহিংসতার ঘটনাগুলো তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আগামী দিনগুলোতে দেশটির পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে উদ্বেগ।
