বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে আগেই সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট। তবে অতিরিক্ত সতর্কতা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সাইটটিতে সাইবার হামলার আলামত পাওয়া গেছে। ওয়েবসাইটের অন্তত দুটি স্থানে সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত হওয়ার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন ব্যাংকটির তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মীরা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি। ছুটির পর ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হলেও অনলাইন পোর্টালটি বন্ধ থাকায় সেটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আরও সময় লাগছে।
ব্যাংকটির তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়েবসাইটের দুটি স্থানে সাইবার হামলার সম্ভাব্য চিহ্ন পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে সমস্যাগুলো শনাক্ত করে সেগুলো সমাধানের কাজ শুরু হয়েছে। ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেবাটি আবার চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে রোববারের মধ্যেই ওয়েবসাইটটি সম্পূর্ণ নিরাপদ করে সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ বর্তমানে শূন্য থাকায় এ বিষয়ে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ১৯ অক্টোবর সরকার জনতা ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমানের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে। পরদিন থেকে দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ব্যাংক খাতে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরু হয়। এই ছুটির মধ্যেই সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সতর্কতা জারি করা হয়।
বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি বা PHP-তে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর নতুন করে সাইবার হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে গত ২১ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এনিসা (ENISA) এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যৌথ সতর্কতা জারি করে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, নিরাপত্তার ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা আক্রান্ত সার্ভারে দূর থেকে ক্ষতিকর কোড চালানোর সুযোগ পেতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবার নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই দ্রুত নিরাপত্তা প্যাচ বা প্রয়োজনীয় হালনাগাদ ইনস্টল করার পরামর্শ দেওয়া হয়। যেসব ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করা সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশন সাময়িকভাবে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার সুপারিশ করা হয়।
আন্তর্জাতিক এই সতর্কতার পর সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট গত বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যাতে কোনো সাইবার অপরাধী ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে ঝুঁকি কমানো।
তবে ছুটি শেষে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট পুনরায় চালু করা সম্ভব হলেও জনতা ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হয়েছে। সাইটটিতে ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার সংক্রমণের আলামত পাওয়ায় নিরাপত্তা যাচাই ও প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেটি চালু করা যাচ্ছে না।
বর্তমানে জনতা ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মীরা ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছেন। তবে হামলার প্রকৃত ধরন, এর উৎস এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ওয়েবসাইটটি দ্রুত সচল করাই এখন ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রধান লক্ষ্য। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই গ্রাহক ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা আবারও অনলাইনে ব্যাংকটির ওয়েবসাইট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
