যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেও সংকট নিরসনে আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ সফল করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আবারও আলোচনায় বসা প্রয়োজন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিতে প্রচারিত এক ভাষণে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সামরিক অভিযানের হুমকিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের ঘোষিত ‘মিনি এপিক ফিউরি’ নামের সামরিক পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যেরও জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দেশটির ওপর নতুন করে হামলা হলে তার পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের ভূখণ্ডে সীমিত পরিসরে কোনো হামলা চালানো হলেও তার জবাব হবে আরও ব্যাপক ও কঠোর। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাহিনীটি।
অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরে মার্কিন বাহিনীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাঁর এই বক্তব্যের ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মহাজেরানিও দেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান শান্তি চায়। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এলে কোনো ধরনের আগ্রাসন মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
এদিকে, চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইরানের শীর্ষ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।
বৈঠকগুলোতে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, দুর্নীতি দমন এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক করণীয় নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।
সব মিলিয়ে যুদ্ধ বন্ধের অন্তর্বর্তী চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতবিরোধের পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। একদিকে পেজেশকিয়ান আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইরানের সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তারা যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার কথা জানাচ্ছেন। ফলে কূটনৈতিক আলোচনা আবার শুরু হয় কি না এবং তা সংঘাত প্রশমনে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
