ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা। দীর্ঘ সময় ধরে তথ্যের ব্যবহার ও গোপনীয়তা সম্পর্কে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ২৫ বিলিয়ন ডলারের জরিমানা আরোপ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অঙ্ক কার্যকর হলে তা প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় আর্থিক ও আইনি চাপ তৈরি করতে পারে।
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, বিবিসির একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়ে ফেসবুকের ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে আদালতে অভিযোগ ওঠে। মামলায় মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গসহ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
অভিযোগের মূল বিষয় ছিল, ব্যবহারকারীদের তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি যে ধরনের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার আশ্বাস দিয়েছিল, বাস্তবে সেই সুরক্ষা যথাযথভাবে বজায় রাখা হয়নি। বিশেষ করে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছিল।
নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেসের বক্তব্য অনুযায়ী, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হলেও কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং গ্রাহকদের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার দায়িত্ব এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের রয়েছে বলেও মামলার প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অঙ্গরাজ্যটির বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা মেটার তথ্য ব্যবহারের নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। মামলায় রাজ্যের আইন লঙ্ঘনের অসংখ্য ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সম্ভাব্য জরিমানার পরিমাণ ২১৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারত। তবে শেষ পর্যন্ত তা কমিয়ে ২৫ বিলিয়ন ডলারে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, মেটা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি নয়। প্রতিষ্ঠানের প্রধান আইনজীবী সিজে মাহোনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন। ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে আরও সময় লাগতে পারে।
এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেটার ব্যয়ও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গুগলসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে নতুন প্রযুক্তি, ডেটা সেন্টার এবং এআই অবকাঠামোতে বিপুল বিনিয়োগ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
মেটার প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা সুসান লির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে এআই-সংক্রান্ত প্রকল্পে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় ১৩৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। এই বিপুল ব্যয় কোম্পানির নগদ অর্থের প্রবাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে আইনি বিরোধ এবং এআই খাতে ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ—দুই দিক থেকেই মেটা এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখে। তবে জরিমানার অঙ্ক, আদালতের রায় এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য মূল প্রতিবেদন ও আদালতের নথির সঙ্গে তথ্যগুলো মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
