নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর আইনজীবীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁদের রিমান্ড আবেদনের শুনানি আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ফতুল্লার আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম গ্রেপ্তার তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁদের রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আইনজীবী জিয়াউল ইসলাম কাজল, তাঁর ভাই আতিকুল ইসলাম এবং আরেক আইনজীবী মাহাবুব রহমান।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের আল্লামা ইকবাল রোড এলাকায় নিজ বাসা থেকে জিয়াউল ইসলাম কাজল ও তাঁর ভাই আতিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। একই রাতে শহরের দেওভোগের পাক্কা রোড এলাকার গার্মেন্ট গলি থেকে মাহাবুব রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, গ্রেপ্তারের পর বুধবার সকালে তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর), যখন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা তুহিন হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিনের বিষয়ে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় তিনি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান দেওয়ার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়। সেই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তবে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী শুনানি ও পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকে নজর রয়েছে।
এখন রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন এবং মামলার তদন্তে নতুন কী তথ্য সামনে আসে, তা পরবর্তী কার্যক্রমে পরিষ্কার হতে পারে।
