বাগেরহাটের রামপালে বড় আকারের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত কেন্দ্রটির পিক উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৪৪২ মেগাওয়াট। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।
বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। অনুমোদনের জন্য এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য তোলা হয়।
এদিনের একনেক সভায় মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অর্থায়নে বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বাকি ২ হাজার ১২৩ কোটি টাকা বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই
প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নতুন করে জমি কেনা বা অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। কারণ, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১২ সালে বিপিডিবি মোট ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল।
এই জমির একটি অংশে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। অবশিষ্ট ব্লক-বি এলাকায় জমি উন্নয়ন এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। ওই প্রস্তুত জায়গাতেই নতুন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় কমপক্ষে ৬৪০ ওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। এর সঙ্গে ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত ইনভার্টার এবং একটি পুলিং সাবস্টেশন নির্মাণ করা হবে।
উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল সার্কিট ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উপকেন্দ্রে দুটি ২৩০ কেভি বে নির্মাণ করা হবে।
সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অংশ হিসেবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ডরমিটরি, রেস্টহাউস ও মসজিদ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া তিনতলা একটি নিয়ন্ত্রণ ভবন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন কারিগরি কাজে দেশীয় পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, রামপালে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ার মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেলওয়ের জন্য ৩০টি নতুন লোকোমোটিভ
এদিকে একই একনেক সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আরও একটি বড় প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হবে।
লোকোমোটিভ কেনার প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে প্রকল্প ঋণ হিসেবে ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব রয়েছে।
একনেকের এ সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাতটি প্রকল্পসহ নৌপরিবহন, পররাষ্ট্র এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
সভায় তোলা ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন প্রকল্প। এর পাশাপাশি দুটি সংশোধিত প্রকল্প এবং একটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
