ঢাকার দোহার উপজেলার রাধানগর গ্রামের পাঁচ কন্যাসন্তানের পরিবারে নেমে আসা দুর্দশার খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে শুক্রবার, ২ অক্টোবর পরিবারটির সঙ্গে দেখা করে সহায়তা ও প্রয়োজনীয় উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে রাধানগর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ ও তার স্ত্রী ফরিদা বেগমের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। মাত্র ৩১ দিনের ব্যবধানে মা-বাবাকে হারিয়ে তাদের পাঁচ মেয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরিবারটির দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটের কথাও উঠে আসে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এরপর পরিবারের খোঁজ নিতে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী শুক্রবার সংগঠনটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে যায়। সেখানে তারা প্রয়াত দম্পতির বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পাঁচ কন্যার খোঁজ নেন।
এ সময় পরিবারটির জন্য আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রতিনিধিরা শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সংগঠনটির সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ কাজ করছে। সংবাদমাধ্যমে রাধানগরের পরিবারটির দুর্দশার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি তারেক রহমানের নজরে আসে এবং তিনি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পৌঁছে দিতেই প্রতিনিধি দলটি সেখানে গেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অসহায় ও বিপদগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংগঠনটির সদস্য মাসুদ রানা লিটন ও মুস্তাকিম বিল্লাহসহ স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন।
রাধানগরের এই পরিবারের দুর্দশার শুরু হয় মা ফরিদা বেগমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট নিজ বাড়িতে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর স্ত্রীকে হারিয়ে আবুল কালাম আজাদ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।
এর ঠিক ৩১ দিন পর, ২৯ সেপ্টেম্বর আবুল কালাম আজাদেরও ঝুলন্ত মরদেহ নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
মা-বাবার মৃত্যুর পর পাঁচ কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ মেয়ের মধ্যে একজনের বিয়ে হয়েছে এবং অন্যদের মধ্যে অল্পবয়সী সন্তানও রয়েছে। ফলে পরিবারের বেঁচে থাকা সদস্যদের সামনে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
এ অবস্থায় পরিবারটির পাশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর পক্ষ থেকে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির প্রতিনিধিরা জানান, অসহায় পরিবারগুলোর দুর্দিনে সহযোগিতা করার কার্যক্রম তারা ভবিষ্যতেও চালিয়ে যেতে চান।
