চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের পার্কভিউ হাসপাতাল থেকে মো. হাসান নামে ৩৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হাসান হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তবে হাসানের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় তিনি হাসপাতালে তার অসুস্থ স্ত্রী ও নবজাতক সন্তানের বিষয়ে ব্যস্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তান জন্ম দেওয়ার পর নবজাতককে হাসপাতালের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। একই সময়ে আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত হাসানের স্ত্রীকেও সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
পরিবারের দাবি, স্ত্রী ও সন্তানের চিকিৎসার মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করতে হাসান হাসপাতালের নিচে নামেন। তখন কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজকে কেন্দ্র করেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ওই ফুটেজে হাসানকে কয়েকজন ব্যক্তি হাসপাতাল থেকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন—এমন দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।
পার্কভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যারা হাসানকে নিয়ে গিয়েছিলেন, তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের পরিচয়পত্রও দেখতে চেয়েছিলেন। তবে কী কারণে হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
হাসানের স্ত্রী ওই দিন সকালে সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন হাসপাতালের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হুমায়ুন কবীর।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, সোমবার রাতে হাসানকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা তিনটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
হাসপাতাল থেকে একজন রাজনৈতিক সংগঠনের সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা এবং সেই সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের সময় ও পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে, অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এখন এই গ্রেপ্তারকে ঘিরে পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের বক্তব্য এবং পুলিশের দেওয়া তথ্য—তিন দিক থেকেই বিষয়টি সামনে এসেছে। মামলাগুলোর তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।
