দিল্লিতে রাস্তা নির্মাণের মান নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। পশ্চিম দিল্লির তিলক নগরে রাস্তা পরিদর্শনের সময় এক যুবকের সঙ্গে দিল্লির পূর্তমন্ত্রী প্রবেশ সাহিব সিং বর্মার বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে রোববার। রাস্তার নির্মাণকাজ পরিদর্শনে সেখানে গিয়েছিলেন প্রবেশ বর্মা। এ সময় স্থানীয় আম আদমি পার্টির বিধায়ক জারনাইল সিংও ঘটনাস্থলে ছিলেন। রাস্তার কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বর্মা এক যুবকের মোবাইল নিচের দিকে সরিয়ে দেওয়ার পর তাকে চড় মারছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা ওই যুবককে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।
যুবকটির নাম সাহেব সিং। তার দাবি, তিনি স্থানীয় বিধায়ক জারনাইল সিংয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং রাস্তার কাজের পরিস্থিতি ভিডিও করছিলেন। তার অভিযোগ, রাস্তার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময়ই তার সঙ্গে এই ঘটনা ঘটে। পরে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, প্রবেশ বর্মা ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তার দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন আম আদমি পার্টির কর্মী তার পরিবারকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং তিনি প্রতিক্রিয়া জানান। বর্মা আরও অভিযোগ করেছেন, রাস্তার কাজ নিয়ে স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে ঠিকাদারি ও কমিশনসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তের বিষয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বক্তব্যও শুরু হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে ঘটনাটির সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুললে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসছে এবং ভোটারদের কাছে জবাবদিহির ভয় কমে যাওয়ার কারণেই এমন আচরণ দেখা যাচ্ছে। একই পোস্টে তিনি নিজের দীর্ঘদিনের ‘ভোটচুরি’ অভিযোগের সঙ্গেও বিষয়টি যুক্ত করেন।
রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের জবাবে প্রবেশ বর্মা তাকে বিষয়টি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বর্মার বক্তব্য, ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল সে বিষয়ে রাহুল গান্ধীর পূর্ণ তথ্য নেই।
এদিকে বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নেই। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। সাহেব সিংয়ের পক্ষ থেকেও অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় অন্য পক্ষ থেকেও অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযোগকারী সাহেব সিংয়ের বিরুদ্ধেও অতীতে একটি হামলার মামলা থাকার কথা পুলিশ জানিয়েছে। তবে ওই মামলার বিষয়টি বর্তমান চড়কাণ্ডের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করে না; পুরো ঘটনার তথ্য যাচাই করাই এখন পুলিশের তদন্তের বিষয়।
রাস্তার কাজের মান নিয়ে শুরু হওয়া এই ঘটনা এখন দিল্লির রাজনীতিতে বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। একদিকে রয়েছে মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের পাল্টা অভিযোগ, অন্যদিকে ভিডিওতে দেখা ঘটনার ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রশ্ন ও সমালোচনা। তদন্তের পর পুরো ঘটনার বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসতে পারে।
