হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ সবসময় উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তার মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব সমুদ্রপথে কোনো ধরনের বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পড়তে পারে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
শাহবাজ শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে পাকিস্তান ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছে ইসলামাবাদ।
তিনি বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি করা এবং শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
জাতিসংঘ সনদের প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকারের কথাও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন শাহবাজ শরিফ। তিনি পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর জাতিসংঘ সনদের প্রতি সমর্থনের বিষয়টি স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য পাকিস্তান কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের নেতৃত্বে দারিদ্র্য ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরে শাহবাজ শরিফ বলেন, ফেব্রুয়ারিতে উপসাগরীয় অঞ্চল ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর ওপরও পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেবের মতো কৌশলগত নৌপথের গুরুত্ব তুলে ধরে এসব পথ অবাধ ও নিরাপদ রাখার ওপর জোর দেন তিনি। তার বক্তব্যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য এই জলপথগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফিলিস্তিন ইস্যুতেও জাতিসংঘে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরেন শাহবাজ শরিফ। পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা করেন তিনি। একই সঙ্গে গাজায় চলমান সংঘাত ও প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে আল-কুদস আল-শরিফকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে কাশ্মীর ইস্যুও তুলে ধরেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি কাশ্মীরকে পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে ভারতের প্রতি ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ‘ভুল’ না করার সতর্কবার্তাও দেন শাহবাজ শরিফ। কাশ্মীর প্রশ্নে পাকিস্তানের অবস্থান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বক্তব্যে আবারও তুলে ধরেন তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করে চতুর্থবারের মতো বক্তব্য দেওয়াকে নিজের জন্য সম্মানের বিষয় বলে উল্লেখ করেন শাহবাজ শরিফ।
এ সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান তিনি। পাশাপাশি জাতিসংঘের কার্যক্রমে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
শাহবাজ শরিফের বক্তব্যে সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা, ফিলিস্তিন, কাশ্মীর এবং বৈশ্বিক শান্তি ও কূটনীতির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।