ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ইরানের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং পারমাণবিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কথা তুলে ধরেন।
নেতানিয়াহু একই সঙ্গে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতাও বড় ধরনের আঘাতের মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন। ইরানবিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি ওয়াশিংটনের ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ভাষণে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব স্থাপনা ধ্বংসের অভিযান পরিচালনা করা সামরিকভাবে অত্যন্ত কঠিন ছিল। তবে ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রশ্নে সিদ্ধান্তটি নেওয়া তার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
নেতানিয়াহুর ভাষণের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরাইলকে ঘিরে তথ্য ও প্রচারণার বিতর্ক। তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে কাতার ও তুরস্কের মতো কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধেও তিনি অভিযোগ তোলেন।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের সমালোচনার প্রসঙ্গও ভাষণে তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, ইসরাইল নিজেদের নিরাপত্তার পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু দেশের নেতারা ব্যক্তিগতভাবে ইসরাইলের নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার আগে বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদল সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ভাষণের শুরুতেই কয়েক ডজন প্রতিনিধি ওয়াকআউট করেন। পরে নেতানিয়াহু তাদের সমালোচনা করে বক্তব্য চালিয়ে যান।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথি ও অন্যান্য আঞ্চলিক গোষ্ঠীর প্রসঙ্গও নেতানিয়াহুর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে তুলে ধরেন এবং ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন।
তবে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো কতটা ধ্বংস হয়েছে—এ বিষয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে তার নিজস্ব দাবি হিসেবে দেখা প্রয়োজন। মাঠপর্যায়ের ক্ষয়ক্ষতি ও সামরিক সক্ষমতার প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
