বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়ে ডিপ্রেশনে পরিণত হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বা আইএমডির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিস্টেমটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং আরও শক্তিশালী হয়ে ডিপ ডিপ্রেশনে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে সিস্টেমটি ওড়িশার গোপালপুর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপত্তনম থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছে। আইএমডি জানিয়েছে, এটি ২৩ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের ভোরের মধ্যে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে।
নাম হবে ‘অর্ণব’?
বর্তমান অবস্থায় এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ঘূর্ণিঝড় অর্ণব’ বলা হচ্ছে না। তবে সিস্টেমটি যদি ঘূর্ণিঝড়ের নির্ধারিত শক্তিতে পৌঁছায়, উত্তর ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা অনুযায়ী এর নাম হবে ‘অর্ণব’। নামটি প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ।
ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
সিস্টেমটির প্রভাবে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ওড়িশার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গসহ আশপাশের কিছু এলাকাতেও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।
ভারী বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা বা স্থানীয় বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সমুদ্র উপকূলের বাসিন্দা ও জেলেদেরও আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কবার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত
পরিস্থিতি বিবেচনায় ওড়িশার কয়েকটি জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। খারাপ আবহাওয়া ও সম্ভাব্য ভারী বৃষ্টির কারণে শিশু ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে আবহাওয়া ব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ‘অর্ণব’ নামে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হবে কি না এবং শেষ পর্যন্ত এর শক্তি ও গতিপথ কী হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর।
