শেরপুরে কোমল পানীয় পান করার পর দুই শিক্ষার্থীসহ তিনজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ তিনজন হলেন কামারপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে সদ্য এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী জেবিন (১৭), একই এলাকার শফিকুল ইসলামের মেয়ে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বর্ণা (১৪) এবং পাশের চর সাপমারি গ্রামের চান মাহমুদের ছেলে ওসমান আলী (৫০)।
তাদের সবাইকে পরে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাদের স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অসুস্থ ওসমান আলী জানান, রোববার সন্ধ্যায় তিনি স্থানীয় ইমামবাড়ী বাজারের একটি দোকান থেকে আকিজ বেভারেজ অ্যান্ড ফুড কোম্পানির উৎপাদিত ‘স্পিড’ নামের কোমল পানীয় কিনেছিলেন। পরে বাড়ির কাছে গিয়ে তিনি নিজে অল্প পরিমাণ পান করেন এবং পাশের বাসার জেবিনকে সেটি খেতে দেন।
জেবিনও কিছুটা পান করার পর সঙ্গে থাকা তার চাচাতো বোন স্বর্ণাকে পানীয়টি দেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই দুজন অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। তাদের বমিও হয়। একই সময় ওসমান আলীও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
জেবিন জানান, তিনি নিয়মিত ওই ধরনের কোমল পানীয় পান করেন। কিন্তু রোববার পান করার পর অস্বাভাবিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পান করার প্রায় এক মিনিটের মধ্যেই তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় এবং চোখে ঝাপসা দেখতে থাকেন। এরপর তিনি মাটিতে পড়ে যান।
জেবিনের বাবা জয়নাল আবেদীন বলেন, ঘটনার পরও তার মেয়ের শারীরিক অবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এখনো সে ঠিকভাবে বসতে পারছে না এবং বসলে চোখে ঝাপসা দেখছে।
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. অনন্যা দত্ত জানান, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ার কারণেও এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দিয়ে তিনজনকেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তবে কোমল পানীয় পান করার পরই তিনজন অসুস্থ হয়ে পড়ার প্রকৃত কারণ কী, তা নিশ্চিত হতে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
