ইসরাইলকে বয়কট বা দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করার নীতি গ্রহণ করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ফেডারেল সরকারি সহায়তা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। এ লক্ষ্যে ‘প্রটেক্ট ইকোনমিক অ্যান্ড একাডেমিক ফ্রিডম অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল পাস করেছে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত হাউস।
বৃহস্পতিবারের ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ২৩৭ জন এবং বিপক্ষে ১৬৯ জন প্রতিনিধি ভোট দেন। তবে আইন হিসেবে কার্যকর করতে হলে এখন বিলটি সিনেটের অনুমোদন পেতে হবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ইসরাইলকে বয়কট এবং দেশটির সঙ্গে একাডেমিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার দাবিও জোরালো হয়।
এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং তাদের ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়।
রিপাবলিকান রাজনীতিকদের একটি অংশের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলা কিছু বিক্ষোভের সঙ্গে ইহুদিবিদ্বেষ ও চরমপন্থার যোগ রয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের বক্তব্য, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া কিংবা গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদকে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়।
হাউসের ভোটে দলীয় বিভাজনও স্পষ্ট হয়েছে। বিলটির বিরোধিতা করা রিপাবলিকান সদস্য ছিলেন মাত্র দুজন। অন্যদিকে ৩৩ জন ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি বিলটির পক্ষে ভোট দেন।
নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেরল্ড ন্যাডলার জানান, তিনি আন্তর্জাতিক বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশনস বা বিডিএস আন্দোলনের সমর্থক নন। তারপরও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি বিলটির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।
বিডিএস আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলের নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বয়কট করা।
অন্যদিকে বিলটির সমর্থকদের দাবি, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন মতপ্রকাশ বা একাডেমিক আলোচনায় হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্যে তৈরি হয়নি। তাদের মতে, ইসরাইলি বা ইহুদিদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ঠেকানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জশ গটহাইমার বিলটির পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় করদাতাদের অর্থে ফেডারেল সহায়তা পায়, তারা কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে একাডেমিক অংশীদারত্ব কিংবা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করতে পারবে না—বিলটির বক্তব্য মূলত এটুকুই।
