ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। এবার তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবল সমর্থকদের সংগঠনগুলো। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিকীকরণ এবং ফিফার কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি উঠেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, ইউরোপের ফুটবল সমর্থকদের সংগঠন ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ বা এফএসই ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া একটি অনলাইন পিটিশনে সমর্থন জানিয়েছে। পিটিশনটিতে শুধু সভাপতির পদত্যাগ নয়, ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা এবং নির্বাহী ক্ষমতার ওপর শক্তিশালী নজরদারি প্রতিষ্ঠার দাবিও জানানো হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এতে এরই মধ্যে ২৮ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
এই উদ্যোগে এফএসইর পাশাপাশি আফ্রিকার ফুটবল সমর্থকদের সংগঠন ‘ফুটবল সাপোর্টার্স আফ্রিকা’ এবং উত্তর আমেরিকার ‘ইন্ডিপেনডেন্ট সাপোর্টার্স কাউন্সিল’ও যুক্ত হয়েছে। আরও বেশ কয়েকটি দেশের ফুটবল সমর্থক সংগঠন পিটিশনটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
সমর্থকদের অসন্তোষের অন্যতম কারণ বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ মালিকানা ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা। সম্প্রতি বিশ্বকাপের মালিকানার একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন ফিফা সভাপতি। বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই সমর্থক সংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক আপত্তি দেখা দেয়।
এফএসইর অবস্থান হলো, বিশ্বকাপ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। এটি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি সামাজিক ও ক্রীড়া আয়োজন। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে বিশ্বকাপ থেকে অতিরিক্ত মুনাফা তৈরির উদ্যোগ ফুটবলের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছে সংগঠনটি।
পিটিশনকারীদের অভিযোগ, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনকে বিনিয়োগের পণ্যে পরিণত করার চেষ্টা সমর্থকদের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়, ফিফার কাঠামোগত সংস্কারেরও দাবি তুলেছেন তারা।
সমর্থকদের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, নির্বাহী কর্মকর্তাদের জবাবদিহি এবং ফিফার ক্ষমতার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান স্বনিয়ন্ত্রণ কাঠামো যথেষ্ট জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারেনি। তাই ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
