কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটগুলো ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে ব্যবহারকারীদের কী ধরনের তথ্য দেবে, তা প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে একটি কৃত্রিম থিঙ্ক ট্যাঙ্ক তৈরির অভিযোগ উঠেছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে। ‘রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট’-এর একটি প্রতিবেদনের বরাতে ডেইলি সাবাহ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘হ্যানোভার ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি’ নামে একটি ওয়েবসাইটকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আদলে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইসরাইল ও ফিলিস্তিন সম্পর্কিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে গবেষণামূলক লেখা প্রকাশ করছে।
তবে ওয়েবসাইটের নিজস্ব তথ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে, এটি স্বাধীন কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠান নয়। ইসরাইলি সরকারের একটি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের হয়ে ‘পিরো ইনক’ নামের একটি কোম্পানি এটি তৈরি করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গত ৬ আগস্ট থেকে প্রতিষ্ঠানটি শতাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব লেখায় ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি এবং গাজার বর্তমান পরিস্থিতির মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—এগুলোতে বিস্তারিত পরিসংখ্যান, সূত্র, পাদটীকা, সূচিপত্র এবং তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এর পেছনে উদ্দেশ্য হিসেবে এআই চ্যাটবট ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের কাছে এসব তথ্যকে বেশি গ্রহণযোগ্য করে তোলার কৌশলের কথা উঠে এসেছে।
পিরো ইনক এ ধরনের কাজকে ‘এআই স্টোরি অপ্টিমাইজেশন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল যেভাবে কোনো তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা মূল্যায়ন করে, সেই কাঠামো মাথায় রেখেই কনটেন্ট তৈরি করা হয়।
ডিসইনফরমেশন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান নিউজগার্ডের বিশ্লেষক অ্যালিস লির মতে, এআই মডেলগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট তথ্য, পরিসংখ্যান এবং শক্তিশালী উৎস বা সাইটেশনকে গুরুত্ব দেয়। সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের লেখাগুলোতেও এসব বৈশিষ্ট্য রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ওয়েবসাইটটির ডিজাইনও একটি মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতো করে সাজানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সাধারণ নাম, নির্দিষ্ট লেআউট এবং লাল-সাদা-নীল রঙের ব্যবহার করে এটিকে বিশ্বাসযোগ্য মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্কের আদলে তৈরি করা হয়েছে।
যদিও প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের গবেষণাকে একাডেমিক ও পিয়ার-রিভিউড হিসেবে উপস্থাপন করছে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—লেখাগুলোতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারি উৎসের ওপর বেশি নির্ভর করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে পিরো ইনককে প্রায় ৯ লাখ ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। ফরাসি জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান হাভাস মিডিয়ার মাধ্যমে অর্থায়নের একটি উপ-চুক্তি পরিচালিত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অভিযোগ সত্য হলে, অনলাইন কনটেন্ট তৈরির প্রচলিত প্রচারণা কৌশলের বাইরে গিয়ে এআইয়ের তথ্যভান্ডার ও উত্তর দেওয়ার ধরনকে প্রভাবিত করার জন্য পরিকল্পিত কনটেন্ট তৈরির একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে।
