মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমে আসার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৩৫৯ দশমিক ৫৮ ডলারে উঠেছে। এর আগের কার্যদিবসে সুদের হার বাড়ার প্রভাবে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে গিয়েছিল। তবে মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪১৩ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে।
ওএএনডিএর জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওয়াংয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে আসা এবং দেশটির রাজস্ব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য বলছে, আগামী মাসে ফেডের নীতিগত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা প্রায় ৬৭ শতাংশ। অন্যদিকে হার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ।
এফএক্সটিএমের বাজার গবেষণা প্রধান লুকমান ওটুনুগা মনে করছেন, স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সীমা অতিক্রম করতে পারলে তা আরও বেড়ে ৪ হাজার ৫০৫ ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে। বিপরীতে দাম ৪ হাজার ৩০০ ডলারের নিচে নেমে গেলে ৪ হাজার ২০০ বা ৪ হাজার ১৫০ ডলারের দিকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারে প্রভাব ফেলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা হচ্ছে না এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ওঠানামা দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ২২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭২০ দশমিক ৪৩ ডলার। আর প্যালাডিয়ামের দাম ১ হাজার ২৯০ দশমিক ৫৫ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
টিডি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে রৌপ্য ও প্লাটিনামের বাজার স্বর্ণের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ভালো পারফর্ম করতে পারে।
