বরিশালের গৌরনদী উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক দুই ছাত্রদল নেতা। দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর এবার বিএনপির মূল কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন মো. জাফর ইকবাল এবং কেএম আনোয়ার হোসেন বাদল।
রোববার, ১৬ আগস্ট এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মো. শহিদুল্লাহ এবং সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন দায়িত্ব পাওয়া দুজনই দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মো. জাফর ইকবালের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময়। ১৯৮৬ সালে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে তিনি ছাত্রদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি গৌরনদী উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর ২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
শুধু উপজেলা পর্যায়েই নয়, জেলা পর্যায়েও ছাত্রদলের নেতৃত্বে ছিলেন জাফর ইকবাল। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অন্যদিকে, কেএম আনোয়ার হোসেন বাদলেরও রয়েছে দীর্ঘ ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা।
তিনি সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে তিনি ওই কলেজের ভিপি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর এবার উপজেলা পর্যায়ের মূল রাজনৈতিক সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন সাবেক এই দুই ছাত্রনেতা।
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মো. জাফর ইকবাল ও কেএম আনোয়ার হোসেন বাদলকে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
দলের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকা নেতাদের নতুন দায়িত্ব দেওয়াকে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের অভিজ্ঞতা এখন মূল দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হলো।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পর সাবেক এই দুই ছাত্রনেতার বিএনপির মূল কমিটিতে পদায়ন তাদের রাজনৈতিক জীবনের নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
এখন দেখার বিষয়, নতুন দায়িত্বে তারা কীভাবে সংগঠনকে এগিয়ে নেন এবং স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে কী ধরনের ভূমিকা রাখেন।
