বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের সংকটের মধ্যে অতিরিক্ত ডিজেল পাঠানোর অনুরোধ বিবেচনা করছে ভারত। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
শুক্রবার ১৪ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ ভারত পর্যালোচনা করছে। তবে অতিরিক্ত জ্বালানি দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারতের নিজস্ব ডিজেল মজুত এবং পরিশোধন সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের জন্য দুই দেশের মধ্যে যে ব্যবস্থা রয়েছে, সেটি এখনো কার্যকর আছে। অর্থাৎ বিদ্যমান চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধটি সামনে এসেছে। বাড়তি সরবরাহের বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত তাই বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও প্রশ্ন
এদিনের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
এর পাশাপাশি ব্রিকসের একটি বিশেষ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
জয়সওয়ালের ভাষ্য অনুযায়ী, সফর নিয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
অর্থাৎ একই সময়ে বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাড়তি ডিজেল সরবরাহের বিষয়টি যেমন ভারতের বিবেচনায় রয়েছে, তেমনি দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—ভারত অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়ে কবে চূড়ান্ত ঘোষণা আসে।
