চট্টগ্রাম বন্দরসীমা ও বহির্নোঙরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নতুন করে তিনটি নির্দেশনা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। অননুমোদিত নৌযানের চলাচল, জাহাজের নিরাপত্তায় ঘাটতি এবং বন্দরের প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল বসানোর কারণে নৌ-চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।
তিনি জানান, বন্দরসীমায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে Vessel Traffic Management and Information System-এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, পুলিশ, নৌপরিবহণ অধিদপ্তর, মার্কেন্টাইল মেরিন অফিসসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর টহল, সমন্বয় এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজের নিরাপত্তার বিষয়েও শিপিং এজেন্টদের জন্য নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। জাহাজে ওয়াচম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ওয়াচম্যান বুকিং সেলের সুপারিশ ও অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নিয়ম অমান্য করলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্দেশনাগুলো হলো—
প্রথমত, চট্টগ্রাম বন্দরসীমা ও বহির্নোঙরে অবস্থানরত প্রতিটি জাহাজকে আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর নিরাপত্তা (ISPS) কোড এবং প্রচলিত নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। জাহাজ বহির্নোঙরে পৌঁছানোর পর থেকে অ্যাঙ্কর ওয়াচ চালু রাখা, VHF চ্যানেল ১৬ ও ১২ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ডেকে নির্ধারিত সময় পরপর টহল এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা আলো নিশ্চিত করতে হবে।
পোর্ট কন্ট্রোলের অনুমতি ছাড়া কোনো অননুমোদিত নৌযান, ফ্রেশ ওয়াটার বার্জ, সার্ভিস বোট কিংবা অন্য কোনো জলযান বাণিজ্যিক জাহাজের কাছে ভিড়তে পারবে না। সন্দেহজনক কোনো নৌযান বা ব্যক্তি নজরে এলে কিংবা নিরাপত্তাজনিত কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত পোর্ট কন্ট্রোল ও কোস্ট গার্ডকে অবহিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বহির্নোঙরে থাকা জাহাজগুলোর নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক প্রশিক্ষিত ও অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োগের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বন্দর কর্তৃপক্ষের ওয়াচম্যান বুকিং সেলের মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।
নিয়োগের পর ওয়াচম্যানদের জাহাজের নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন নিশ্চিত করার জন্য জাহাজের মাস্টার ও সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয়ত, চট্টগ্রাম বন্দরের সীমানা, প্রবেশপথ এবং বহির্নোঙর এলাকায় অনুমতি ছাড়া মাছ ধরা, মাছ ধরার জাল বসানো কিংবা ফিশিং বোট দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, এসব কার্যক্রমের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সংঘর্ষ ও অন্যান্য নৌ-দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাই বন্দরের নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
