মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক জাহাজে হামলা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দ্রুত খুলে দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অক্টোবরে সরবরাহের জন্য ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ৬১ ডলারে উঠে যায়। সাম্প্রতিক এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত শুরুর আগের সময়ের তুলনায় ব্রেন্টের দাম প্রায় এক-চতুর্থাংশ বেশি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়াই তেলের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক জাহাজে হামলার ঘটনাও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। কখনো আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, আবার কখনো দুই পক্ষের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত মিলছে। ফলে তেল ব্যবসায়ীরা সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
সিডনিভিত্তিক কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটেরার মনে করেন, সম্ভাব্য সমঝোতার আশা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তবে আলোচনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় আস্থার জায়গায় কিছুটা দুর্বলতা তৈরি হয়েছে।
তার মতে, আলোচনা যত দীর্ঘ হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবিদাওয়া যত জটিল আকার নেবে, দ্রুত কোনো কার্যকর সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে বাজারের সংশয়ও তত বাড়বে। মাসের শুরুতে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই সতর্ক অবস্থানে চলে গেছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি?
পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল।
যুদ্ধ ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বা বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দ্রুত সংকট তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি এশিয়ার বাজারে যায়।
এ কারণেই প্রণালিতে চলাচল নিয়ে সামান্য অনিশ্চয়তাও তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে নৌপথটি স্বাভাবিক না হলে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হতে পারে এবং তেলের দামও নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
বর্তমানে বাজারের নজর তাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার দিকে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে যায়—তার ওপরই আগামী দিনগুলোতে তেলের দামের গতিপথ অনেকটা নির্ভর করছে।
