কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের বি ব্লকের হেড মাঝি এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন রোহিঙ্গা বাসিন্দা। তাদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হেড মাঝির বিরুদ্ধে ঘর নির্মাণ ও সংস্কারে অর্থ দাবি, বিভিন্ন সালিশ বা বিরোধ নিষ্পত্তিতে টাকা নেওয়া এবং প্রশাসনিক সেবার ক্ষেত্রে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। তারা জানান, এসব বিষয়ে ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) কার্যালয় ও ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগের কারণে এনায়েত উল্লাহকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছিল। পরে তিনি আবার দায়িত্বে ফিরে আসেন এবং এরপরও অর্থ আদায়ের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
কয়েকজন অভিযোগকারী বলেন, নতুন ঘর নির্মাণ, পুরোনো ঘর সংস্কার, প্রশাসনিক সহায়তা কিংবা সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির মতো বিভিন্ন বিষয়ে অর্থ দাবি করা হয়। তাদের আরও অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রশাসনিক কাজে বিলম্ব করা হয় বা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার ভয় দেখানো হয়। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, গত ২২ জুলাই দুই রোহিঙ্গা নারী ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়ে সিআইসি কার্যালয়ের এক ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অর্থ দাবি ও অনিয়মের অভিযোগ করেন। আবেদনে তারা বিষয়টির তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মন্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে।
অন্যদিকে, হেড মাঝি এনায়েত উল্লাহ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তিনি কোনো ধরনের অবৈধ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত নন।
ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের ক্যাম্প ইনচার্জ রিন্টু বিকাশ চাকমা বলেন, কোনো অভিযোগ লিখিতভাবে পাওয়া গেলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগকারী বাসিন্দারা ক্যাম্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
