উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে জেলার নিচু এলাকার কৃষিজমি প্লাবিত হতে শুরু করেছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বিশেষ করে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর তীরবর্তী এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, জেলার প্রধান নদীগুলোর পানির উচ্চতা ক্রমাগত বাড়ছে। ধরলা নদীর পানি তালুকশিমুলবাড়ী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচে, দুধকুমার নদীর পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার নিচে, তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার নিচে এবং ব্রহ্মপুত্র নদ চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার প্রায় ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানের পানির চাপ অব্যাহত থাকলে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এর ফলে তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পানির চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙনও শুরু হয়েছে। দুধকুমার নদীর তীরে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙ্গা, চর বলদিয়া এবং নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ হাজীরবাজার ও কৃষ্ণপুর এলাকায় ভাঙনের খবর পাওয়া গেছে। একইভাবে ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধির কারণে চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট, শাখাহাটি ও কড়াইবরিশাল চরেও ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙনে প্রতিবছর ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারাতে হচ্ছে। চিলমারীর এক বাসিন্দা জানান, বহুবার ভিটেমাটি হারানোর পর এবারও নদী তাদের শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। অন্যদিকে উলিপুরের এক কৃষক বলেন, কয়েক দিন আগেই বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর নতুন করে সবজি চাষ শুরু করেছিলেন, কিন্তু আবার পানি বাড়ায় সেই ফসলও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তিস্তার পানি ওঠানামা করলেও সোমবার রাত থেকে আবার বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তুলনায় সরকারি সহায়তা এখনও সীমিত বলেও তারা উল্লেখ করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত প্রধান নদীগুলোর দীর্ঘ তীররেখার তুলনায় স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধের পরিমাণ খুবই কম। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি স্থানে নদীভাঙন রোধে কাজ চলমান রয়েছে এবং বাকি অংশের জন্য নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের পানির প্রবাহ অব্যাহত থাকায় নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রতিরক্ষা কাজ চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
