ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে সংলাপের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে কাতার। এ লক্ষ্যে দেশটির একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে গিয়ে ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের পর দুই দেশের মধ্যে স্থবির হয়ে পড়া আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা এবং উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে মতবিনিময়ই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।
এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির একটি সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হলেও তা কার্যকর হয়নি। সেই প্রক্রিয়ায় কাতারও সম্পৃক্ত ছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলার পর পূর্ববর্তী সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কে ইরানের আস্থা কমে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।
ইরানের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় দেশটির কয়েকটি প্রদেশে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত পূর্ববর্তী সমঝোতা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তেহরান কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে দেশটি আরও বড় ধরনের সংঘাতের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, কার্যকর আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ববর্তী সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো বাস্তবায়নে আন্তরিকতা দেখাতে হবে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম অধিকার এবং জ্বালানি তেল রপ্তানির বিষয়ে তারা স্পষ্ট অগ্রগতি দেখতে চায়।
অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে নতুন পারমাণবিক সমঝোতা নিয়ে ওয়াশিংটনের আশাবাদ আগের তুলনায় কমেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত অগ্রগতি না হওয়ায় নতুন চুক্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যুসহ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান না হলে নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হবে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কাতারের মধ্যস্থতা দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পথ তৈরি করতে পারে। তবে আলোচনায় বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে উভয় পক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।
