দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শনিবার সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সময়ে কয়েকটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে থাকায় বন্যা পরিস্থিতিও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় এখনো বন্যার প্রভাব রয়েছে। যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমেছে, তারপরও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় সেখানে বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি নাও হতে পারে। একই সঙ্গে ফেনী অঞ্চলে নতুন করে পানি বৃদ্ধি ও বন্যার ঝুঁকির আশঙ্কাও রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চারটি নদীর ছয়টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট, মনু নদীর একটি পয়েন্ট এবং খোয়াই নদীর বল্লা পয়েন্ট।
এ ছাড়া দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৭টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৬৪টিতে কমেছে এবং ৬টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা, সোমেশ্বরী, মুহুরী ও মাতামুহুরী নদীর কয়েকটি স্থানে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পানি আরও বাড়লে সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থানীয়ভাবে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
