যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সিরিয়াকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা রাষ্ট্র’ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার কাছে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন।
ট্রাম্প বলেন, সিরিয়ার পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে থাকা বাধাগুলো দূর করার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, এই উদ্যোগ তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার আশা, এ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশটিতে উন্নয়ন কার্যক্রম ও বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ আরও অনুকূল হবে।
মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় দুই নেতার বৈঠকের পর চিঠিটি সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ট্রাম্প বিষয়টি মার্কিন কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। এখন আইন অনুযায়ী কংগ্রেস ৪৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
বর্তমানে কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা রাষ্ট্রের তালিকায় থাকলে তার ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন সহায়তা স্থগিত, সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিতে বিধিনিষেধ এবং আর্থিক লেনদেনে কড়াকড়ি। তালিকা থেকে বাদ পড়লে এসব সীমাবদ্ধতার অনেকটাই শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সাফওয়াত রাসলান এই উদ্যোগকে দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সিরিয়ার সংযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়ার ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিল। এর ফলে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় দেশটির অংশগ্রহণের পথ কিছুটা সহজ হয়। পাশাপাশি সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ সিরিয়ার পুনর্গঠনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও আর্থিক সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বুধবার ট্রাম্প সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার ভূমিকাও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, চরমপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিরুদ্ধে আল-শারার পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ট্রাম্পের ভাষায়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আল-শারার প্রতি সম্মান রয়েছে এবং তিনিও তাকে সম্মান করেন।
