ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহভাজন একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা অভিযান পরিচালনা করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানের পর জাহাজটিকে কঠোর নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার ভোরে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানে নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত সহায়তা ছিল।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, এই অভিযান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করা নেটওয়ার্কগুলোর জন্য একটি শক্ত বার্তা। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে তাদের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বলেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে অর্জিত অর্থ ইউক্রেন সংঘাতের অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তাই এই ধরনের জাহাজ ও সরবরাহ চেইনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া বিভিন্ন অস্পষ্ট মালিকানা ও নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত এক ধরনের ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহর ব্যবহার করে থাকে। এসব জাহাজের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে তেল পরিবহনের চেষ্টা করা হয়।
ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এমন শত শত জাহাজ এই নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করছে বলে ধারণা করা হয়। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য বহু জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং তাদের দেশের বন্দর ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করেছে।
এছাড়া ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এসব জাহাজকে বীমা, আর্থিক সহায়তা বা ব্রোকারেজ সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, এসব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার জ্বালানি খাত থেকে আসা রাজস্ব প্রবাহ কমানো এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নের সক্ষমতা দুর্বল করা।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই অভিযান পরিচালনায় ফ্রান্সসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করা হয়েছে। ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানিয়েছে।
